এখনো পৃথিবীতে ভালো ও সৎ মানুষ আছেন। এখনো আছেন নির্লোভ মানুষ। সবচেয়ে বড় কথা অনেক শিক্ষক যেখানে সুযোগ পেলে অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করেন, সেখানে সততার এক অনন্য নজির স্থাপন করে সর্বমহলে প্রশাংসায় ভাসছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি হলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জনাব মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান।
চলতি অর্থ বছরে ওই উপজেলার ৫টি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাবদ দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ এসেছিলো। এসব কাজ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে প্রাক্কলন নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করেন।
>>উচ্চতর গ্রেড নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য আরেকটি শুভ সংবাদ
এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সহকারি শিক্ষক মাহবুবর রাহমান। নির্দিষ্ট কাজ শেষে তিনি বিদ্যালয়ের কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ৭৪ হাজার ৩ শত ৭৫ টাকা!
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মাহবুবর রহমান জানান, কাজের জন্য গাড়ি ভাড়া বাঁচিয়ে পায়ে হেঁটে গিয়েছি। মিস্ত্রি খরচ বাঁচাতে বিদ্যালয়ের প্রহরীকে কাজে লাগিয়েছি। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছি। তবুও বিদ্যালয়ের টাকায় হাত দিইনি।
তিনি আরো বলেন, আমার এক বন্ধু বলেছিলো তুই যে কষ্ট করেছিস বেঁচে যাওয়া অর্থের ভাগীদার তুই। এই অর্থ নিজের পকেটে রেখে দে। এর উত্তরে আমি বলেছিলাম, আমি শিক্ষক ঠিকাদার নয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেল আফরোজ আরা বানু বলেন, ‘নিড বেজড প্লেয়িং এক্সেসরিস’ সরকারি প্রকল্পের অর্থ সরকারি কর ও অন্যান্য খরচ বাদে আমরা হাতে পেয়েছিলাম ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাহবুবর কাজটি মাত্র ৪৯ হাজার টাকায় সম্পন্ন করেছেন।
অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে কী করা হবে জানতে চাইলে শিক্ষক মাহবুবর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ টাইলস করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমন শিক্ষক হোক সবার জন্য অনুকরণীয়। সবাই এই প্রত্যাশাই করছে।
>>প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন দিতে হাইকোর্টের রায়
Comments
Post a Comment