মানুষের সিজার লাগার পরোক্ষ কারণ হলো, ছেলের শ্বশুর ফোন দিয়ে বলবে, আমার মেয়ের কিছু হলে জামাই তোমাকে ছাড়বো না; শাশুড়ি বলে আমার মেয়েকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করুন, টাকা যা লাগে আমি দিবো।
আর শালা-শালি তো আছেই। আর ডাক্তাররা তো মনে এই সেই ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে সিজার না করার ভয়াবহ ক্ষতির কথা বলে ভয় ধরিয়ে দেয়।
যেমন: হাসপাতালে গর্ভবতীকে নেবার পরে, ডাক্তার তড়িঘড়ি করে আট্রাসনোগ্রাম করে এই ডায়লগগুলোর যে কোনো একটি বা একাধিকটি প্রয়োগ করে ভয় ধরিয়ে দেন।
১. বাচ্চা পানিশূন্যতায় ভুগছে।
২. বাচ্চার মায়ের পানি শুকিয়ে গেছে।
৩. বাচ্চা পেটের ভিতরে পায়খানা করে দিয়েছে।
৪. বাচ্চার পজিশন ঠিক নেই।
৫. সিজার না করলে বাচ্চা বা বাচ্চার মা দু’জনের কোনো একজন বা উভয়ের জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে।
ব্যস, এই কথাগুলোর যেকোনো একটা শোনার পর গর্ভবতীর এবং তার পরিবারের লোকের অবস্থা কি হতে পারে অনুমান করা কঠিন নয়।
বাংলাদেশের সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালের গত ৫ বছরের ডেলিভারি রিপোর্ট দেখলে, দেখা যাবে প্রায় ৯০% সন্তান সিজারে ডেলিভারি করানো হয়েছে।
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সিজারের হার কমেছে। মায়ের মৃত্যুর হারও কমেছে, নরমালে জন্ম নিচ্ছে সুস্থ সবল শিশু।
করোনায় লকডাউনে দেশে ১ লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে সিজার করে। বাকি ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে।
বিবিসি বাংলায় ১৯ অগাস্ট ২০২০ তারিখে ‘‘করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে সন্তান প্রসবে কমে এসেছে সিজারিয়ান, কারণ কি?’’ শিরোনামেেএকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ‘‘জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল বিবিসি বাংলাকে বলছেন করোনার সময়ে শুধু সিজার নয় বরং হাসপাতালগুলোতে নরমাল ডেলিভারি ও সিজার দুটিই কমেছে।
স্টপ আননেসেসারি সি-সেকশন ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে সিজারের সংখ্যা কমে আসার মূল কারণ হলো করোনার কারণে মানুষ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে কম গিয়েছে।
"অবস্থা জটিল না হলে অনেকেই এমনকি বাড়ীতে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করেছে। আবার করোনার কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সেবা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকরাও অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিয়মিত বসেননি। মূলত এ তিনটি কারণে হাসপাতালে প্রসবের সংখ্যা কমেছে। আর যেহেতু হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই সিজারিয়ান সেকশন হয়, সংগত কারণে সিজারিয়ানের সংখ্যাও কমে এসেছে", বলছেন সেভ দ্য চিলড্রেনের সাথে জড়িত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইশতিয়াক মান্নান।’’
এই প্রতিবেদন অনেকটা প্রমাণ করে, গর্ভবতীকে যত বেশি হাসপাতালে নেয়অ হয়, সিজারের সংখ্যা আনুপাতিকহারে তত বেশি। বাড়িতে প্রসবের ব্যবস্থা করা হলে সিজারের সংখ্যা কমে যায়। এটা থেকে প্রমাণিত হয়, অধিকাংশ সিজার অপ্রয়োজনীয়।
অস্ট্রিলিয়ায় যান, দেখবেন একজন প্রসূতীকে নরমাল ডেলিভারির জন্য যথানাধ্য চেষ্টা করা হয়। এটা বাড়ির বিষয় নয়, বরং সব হাসপাতালের চিত্র এমনই। কিন্তু আমাদের দেশে সিজার করার বড় কারণ ডাক্তারদের স্বার্থ।
তবে আরেকটি কারণ আছে। অনেক সময় দেখা যায়, গর্ভবতীকে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার আলট্রা করে বলে বাচ্চার পজিশন ঠিক আছে। তবু সিজার করা হয়। কেন? এই ক্ষেত্রে বাচ্চার মা বেশি দায়ী। আপনি ঢাকা শহরের খোঁজ নেন, দেখবেন সেখানে সিজারে বাচ্চা প্রসব করানোটা মায়েদের নিকট একটা বিলাসিতার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রসবের সময় কাছাকাছি চলে এলে মায়েরা নিজেই ডাক্তারকে অনুরোধ করে, ‘‘আমাকে সিজার করান’’। কেন অনুরোধ করে? বাচ্চা প্রসবের সময় কষ্ট হবে বলে। প্রসব বেদনা সহ্য করার ভয়েই মায়েরা নিজেই অনুরোধ করে নিজেকে সিজার করিয়ে থাকেন। বড়ই আত্মঘাতি কাজ। কেন আত্মঘাতি, তা পরে আলোচনা করা হবে।
সিজারের আরেকটি বড় কারণ এবার জানা যাক। এই লেখার শিরোনাম ছিল, ‘‘পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর সিজার লাগে না, মানুষের কেন লাগে?’’
প্রশ্নটির উত্তর নিয়ে কখনো ভেবেছেন? অনেকেই ভাবেননি, আমার বিশ্বাস।
দেখুন মানুষ ছাড়া আর কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাচ্চা প্রসবের সময় সিজার করতে হয় না। কেন? ওদের বাচ্চার পজিশন কি সব সময় ঠিক থাকে??
হ্যাঁ, ওদের বাচ্চার পজিশন সব সময় না হলেও প্রায় সব সময় ঠিক থাকে। কারণ কী? কারণ ওরা সন্তানসম্ভবা হবার পর আগের মতোই স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করে। কিন্তু এখন কার সময় বা গত দু’তিন যুগ থেকে মানুষ তথা নারীরা সন্তান গর্ভে আসার পর প্রায় বেড রেস্টে চলে যায়। শুয়ে বসে থাকে। শুধু খায় আর শুয়ে থাকে। তাহলে বাচ্চা পজিশনে আসবে কী করে??
আপনি বেশি বেশি খান, কিন্তু চলাফেরা আগের মতো করতে আসুবিধা কোথায়!
আগের মায়েরা বাচ্চা গর্ভে আমার পরও স্বাভাবিক চরাফেরা বাদ দিতেন না, সাংসারিক কাজকর্ম করতেন আগের মতোই, তাই তাদের বাচ্চা ডেলিভারির আগেই পজিশনে চলে আসতো। এখন শুয়ে বসে সময় কাটানোর ফলে কখনো বাচ্চার ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যায়, কখনো বাচ্চা পজিশনে আসে না, তাই সিজার করতে হয় ডাক্তারদেরকে।
কিন্তু যদি জানতের সিজারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কথা, তাহলে?
"হয়তো কেউ বলবেন "অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে বর্তমানে "সিজার" করতে হয়, আমি বলব আপনার ধারণা ভুল। তাই যদি হয় তাহলে তো আমাদের দাদি-নানিদের বিয়ে হয়েছে মাত্র ১১/১২ বছর বয়সে, কই তাদের তো কিছু হয়নি…!!
সিজার ডেলিভারির জন্য, আমাদের দেশের মায়েরা অর্ধপঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এটাকে বন্ধ করুন। মা’কে বাঁচান, বাচ্চাকে বাঁচান।
একটা সিজার মানে একটা মায়ের জীবন শেষ!!
সিজার মানে একটা মায়ের মৃত্যুর আজ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে থাকা!
অনেকের ভাবনা সিজার কি? যাস্ট পেট কাঁটা হয়। জ্বি না, শুধু পেট নয় সাথে সাতটা পর্দা কেটে বেবিটা কে দুনিয়াতে আনতে হয়!
হয়তোবা সিজার করানোর সময় এ্যানেসথেসিয়ার এর জন্য বুঝা যায়না পেট কাটাটা! খেয়াল করে দেখবেন আধাঘণ্টার মধ্যে তিনটা স্যালাইন শেষ হয়!
কিন্তু মোটা সিরিন্জ দিয়ে মেরুদণ্ডে দেয়া ইনজেকশন টা প্রতিটা সিজারিয়ান মা কে সারাজীবন কষ্ট দেয়!
মা গুলোর কখনো কখনো শরীরের বিভিন্ন জায়গা অবশ হয়ে থাকে, বসা থেকে উঠতে পারেনা, সংসারের যাবতীয় কাজ করতে ওনাদের অনেক কষ্ট হয়! তবুও করতে হয়! কারন, ওনারা নারী জাতি!
বিশ্বাস করুন, যখন অবশের মেয়াদটা চলে যায়, তখন প্রতিটা মা গলা-কাটা মূরগীর মতো ছটফট করতে থাকে, ২৪ ঘন্টা এক টানা সিজারিয়ান মায়ের শরীরে স্যালাইন চলে! শরীরের ও কাটা জায়গার ব্যাথার জন্য ক্যানোনিকাল স্যালাইন চলে টানা ২৪/৩২ ঘন্টা!! টানা ২ দিন শরীরে খিচুনি ও মাথা বাড়ি হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে হয় প্রতিটা মায়ের!
যথাসম্ভব সিজারকে না বলুন!!
প্রিয় "মা" বাবা আমার হৃদয় নিংড়ানো সম্মান দিয়ে আপনাদের কিছু কথা বলতে চাই খারাপ লাগতে পারে, ক্ষমা করবেন। "প্রত্যেক বালা-মুসিবত আল্লাহর পরিক্ষা স্বরুপ এটা সবাইকে মানতে হবে। তবে সিজারের জন্যে ও বাচ্চা বড় হয়ে D J মার্কা হওয়ার পিছনে বেশির ভাগ আপনারাই দায়ী!
গবেষণায় দেখা গেছে, সিজারের বাচ্চাদের ভবিষ্যতে রোগ-বালাই বেশি হয়।
আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করতো।
আর বর্তমান আপনার ভরসা ডাক্তারের উপর। দুই তিন মাস যেতে না যেতেই স্বামীকে বলেন, আমারে চেক-আপ করান, বাচ্চা মনে হয় উল্টা হয়ে আছে। ক্লিনিকে গেলে "কিছু কসাই ডাক্তার" আপনাকে ভয় দেখায়। ফলে আপনি মানুষিক ও শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেন।
আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় পবিত্র কোরান পড়তো, নামাজ পড়তো, ঘরে বসে আল্লাহর জিকির-আজগার করতো।
আর আপনি বর্তমানে ঘরে বসে ২৪ঘন্টা ডিস লাইনের জিকির করেন। (কিছু মা)
আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় সব ধরনের সাংসারিক কাজ করতো, এমনকি গর্ভাবস্থায় ঢেঁকিতেও ধান বানতো। (আবার এটা ভাইবেন না এগুলো আমি করতে বলতেছি)
আর আপনি বর্তমানে ফুলের বিছানা থেকে উঠতে চান না।
আগের গর্ভবতী "মা" দের চেহারা, পেট, পিঠ সহজে কোনো পরপুরুষ দেখতে পাইনি।
আর বর্তমান আপনার পেট পিঠ গঠনে সবার নজর লাগে, বেপর্দাই চলাফেরা করেন।
আপনার নিয়ত ঠিক নাই, আপনার সমস্যা তো হবেই,।
আল্লাহ সবাই কে সঠিক বুজ জ্ঞান দান করুক, আমিন।
[সংগৃহিত]
Comments
Post a Comment