Skip to main content

করোনার সময় সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন চালু থাকায় কার লাভ হয়েছে?



করোনাভাইরাসের সময় সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন চালু রাখার বিষয়টা যারা নেতিবাচকভাবে দেখছে, কিছু বিষয় লক্ষ্য না করার কারণেই তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন হয়েছে। অনেক বেসরকারি বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন বন্ধ বা হ্রাস করেছে কেন? তাদের রিজার্ভ কম বা আয় বন্ধ হয়ে গেছে বলেই। আবার অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও এবং আয়ের অনেক পথ চালু থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীদের বেতন হ্রাস করেছে অন্যায্যভাবে। সাধারণ ছুটিতে সরকারের আয় পুরোপুরি কিন্তু বন্ধ হয়নি।
রেমিট্যান্স, ভ্যাট, টোলসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের আয় হ্রাস পেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে সরকারের আয় চলমান আছে। তাছাড়া সরকারের রিজার্ভ পর্যাপ্ত আছে বলেই সরকার সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন চালু রাখতে পেরেছে। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি চাকরিজীবিরা তো সরকারকে না জানিয়ে অফিসে যাওয়া বন্ধ করেনি। বরং সরকার নিজেই ওদেরকে ছুটি দিয়েছে, তাই সরকারের দায়িত্ব ওদেরকে বেতন দেয়া। ওরা যদি নিজেদের প্রয়োজনে ছুটি নিতো, তাহলে সরকার ওদেরকে বেতন দিলে বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হতো। রমজান ও ঈদের সময় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকে।


সরকার কি তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন বন্ধ করে রাখা ঠিক হবে? প্রতিরক্ষা বিভাগে যারা চাকরি করে, তারা বছরে একসাথে দু’মাস ছুটি পায়। সরকার কি তখন ওদেরকে বেতন দেয়া ভুল? যদি সরকারি চাকরিজীবিদেরকে সরকার ছুটিতে পাঠানোর পরও সরকার ওদের বেতন বন্ধ রাখতো, তাহলে সরকারের রিজার্ভে যে টাকা জমা থাকতো, তা তখন কী কাজে লাগতো? গত বাজেটে সরকারি চাকরিজীবিদের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, সরকার তা কোন কাজে খরচ করতো?

লকডাউন একদিন তো শেষ হবে। তখন সরকারের আয়ের বন্ধ পথগুলোও চালু হবে, হ্রাস পাওয়া আয়ের পথগুলোও গতি ফিরে পাবে। কিন্তু সাধারণ ছুটির সময় সরকার সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন বন্ধ করে রাখলে ক্ষতি কার হতো বা বেতন চালু রাখাতে লাভ কার হয়েছে, তা নিয়ে আমরা কখনো গভীরভাবে ভাবি না বলেই সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন চালু রাখাকে আমরা অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখছি। সরকার সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন তখনও চালু রেখেছে, যখন বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে; সাধারণ মানুষের ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমানো টাকা কমে গেছে; যখন অনেক পরিবারের অনেক সদস্যের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে; যখন ড্রাইভার, নাপিত, জেলে, দিনমজুরসহ সাধারণ শ্রমজীবিদের নিয়মিত উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবার কারণে সামান্য রিজার্ভটুকুও নিঃশেষ হয়ে গেছে।

এই ভয়াবহ সময়ে এই শ্রেণির বেতন চালু রাখার ফলে লাভ হয়েছে কার? শুধু যাদেরকে বেতন দিয়েছে, তাদের লাভ হয়নি। তারা বেতন পেয়ে কিন্তু তা ব্যাংকে, পকেটে বা বালিশের নিচে রেখে দেয়নি। খরচ করতে হয়েছে, করেছে। সেই খরচ কখনো মুদি দোকানীর হাতে গেছে, কখনো রিকশাঅলার হাতে গেছে, কখনো কখনো দিনমজুরের হাতেও গেছে, কখনো গেছে ঔষধ বিক্রেতার পকেটে। আবার যাদের পকেটে এই শ্রেণির মানুষের টাকা গেছে, তাদের পকেট থেকে পকেট বদল হয়ে সেই টাকা আবার চলে গেছে অন্য অনেক পেশাজীবির পকেটে।
গিয়েছে মাছ বিক্রেতার কাছে, গিয়েছে সবজি বিক্রেতার কাছে। এভাবে যারা এই শ্রেণির মানুষের বেতন চালু রাখার বিরোধীতা করছে, তাদের পকেটেও ওই টাকা গেছে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে। এই শ্রেণির কাছে টাকা থাকায় অনেকে এদের কাছ থেকে ধার নিয়েও সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট লাঘবের সুযোগ পেয়েছে।

সমাজে, রাষ্ট্রে সীমিত পরিসরে হলেও চলমান রয়েছে অর্থনীতির গতি। অর্থনীতি পুরো ভেঙ্গে পড়েনি, অর্থনীতির প্রবাহ পুরোপুরি থমকে যায়নি এই শ্রেণির হাতে সরকার যথানিয়মে যথাসময়ে বেতন তুলে দেয়ায়। বলতে হবে এই শ্রেণির বেতন চালু রাখার মাধ্যমে সরকার দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণের পথই চালু রেখেছে। সরকার এই শ্রেণির বেতন বন্ধ রাখলে সরকারের পকেট ভারী থাকতো, কিন্তু জনগণের কী লাভ হতো! কিছুই না। আমাদের উচিত বিষয়টা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবিদেরকে এবং সরকারকে বিব্রত না করে বরং এজন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।

আরেকটা কথা অস্বীকার করলে চলবে না, সাধারণ ছুটি চলাকালীন সরকারি চাকরিজীবিরা একেবারে শুয়ে-বসে বেতন নেয়নি। অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টের চাকরিজীবিকে সরকারি অনেক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। প্রশাসনে কর্মরতরা খুব কম ছুটি ভোগ করতে পেরেছে। সরকারি চিকিৎসকরাও সাধারণ ছুটি ভোগ করতে পারেনি। ব্যাংকে চাকরিজীবিদেরকেও ব্যাংকে যেতে হয়েছে অনিয়মিতভাবে হলেও। প্রতিরক্ষা বিভাগও ছুটি ভোগ করেনি। শিক্ষা বিভাগে কর্মরতদেরকেও মাঠপর্যায়ে সরকারের বিশেষ কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে। অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, মারাও গেছে অনেকে। তাই সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন চালু রাখা নিয়ে মন্তব্য করার আগে বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত।

নূর আহমদ : শিক্ষক
nurahmad786@gmail.com

Comments

Popular posts from this blog

রূপালী ব্যাংকের সকল শাখার রাউটিং নাম্বার

 রূপালী ব্যাংকের সকল শাখার রাউটিং নাম্বার জেনে  নিন। Districts Branch Names Routing No. Bagerhat Bagerhat Branch 185010078 Bagerhat Baraikhali Branch 185010131 Bagerhat Betaga Bazar Branch 185010160 Bagerhat Fakirhat Branch 185010465 Bagerhat Kachua Bazar Branch 185010760 Bagerhat Mansa Bazar Branch 185010881 Bagerhat Mollahat Branch 185010915 Bagerhat Mongla Port Branch 185010973 Bagerhat Nager Bazar Branch 185011093 Bandarban Bandarban Branch 185030137 Barguna Amtali Branch 185040048 Barguna Barguna Branch 185040130 Barguna Betagi Branch 185040222 Barisal Agarpur Branch 185060044 Barisal Bazar Road Branch 185060402 Barisal Bhawanipur Branch 185060460 Barisal Central Bus Terminal Branch 185060615 Barisal Hemayetuddin Road Branch 185060886 Barisal Mehendiganj Branch 185061364 Barisal Muladi Port Branch 185060060 Barisal Rahmatpur Branch 185061722 Barisal Sadar Road Branch 185061814 Barisal Sagardi Bazar Branch 185061872 Barisal Shikarpur Branch 185062084 Bhola Bangla Bazar Bra...

জিপিএফ ফান্ডের হিসাব ঘরে বসে অনলাইনে দেখার নিয়ম

জিপিএফ ফান্ডের হিসাব ঘরে বসে অনলাইনে দেখার নিয়ম জিপিএফ ফান্ডের হিসাব এখন ঘরে বসে অনলাইনে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে আপনার েস্মার্টফোন অথবা কম্পিউটারে নেট কানেকশন দিয়ে  জিপিএফ ফান্ডের হিসাব   এই লেখায় ক্লিক করুন। আপনার সামনে তিনটি অপশন আসবে। একটি হচ্ছে  Pension Payment Information আরেকটি হচ্ছে  GPF Information আরেকটি হচ্ছে  Grievance Redress System আপনি  GPF Information -এ ক্লিক করুন। আপনার সামনেিএকটি উইন্ডো ওপেন হবে। আপনি  এই উইনন্ডোতে প্রথম ঘরে আপনার ১৭ ডিজিটের আইডি নং অথবা ১০ ডিজিটের স্মার্ট কার্ড নম্বর লিখুন এরপর দ্বিতীয় ঘরে যে নাম্বার দিয়ে ফিক্সেশন করেছেন সেই মোবাইল নং দিন, তৃতীয় ঘরে অর্থবছর লিখুন, ২০২২ সালের জন্য ২০২১-২২ সিলেক্ট করুন। এরপর এন্টার বা সাবমিট দিন। আপনার নাম্বারে একটি ওটিপি নাম্বার আসবে।  সেটি দিলেই আপনার হিসাব চলে আসবে।

EFT Form ইএফটি ফরম পূরণের নিয়মাবলী (ফরমসহ)

 EFT Form ইএফটি ফরম সকল সরকারি চাকরিজীবির জন্য। নিয়মাবলী: নম্বরের বিপরীতে কিছু তথ্য উক্ত তিনটি সার্ভার থেকে আসবে। তাই এই তিনটি অংশ কোনক্রমেই ভুল করা যাবে না। ২।  পুরো ফর্মের ৬ (ছয়)টি জায়গায় বাংলায় নাম লিখতে হবে। বাকিগুলো ইংরেজিতে লেখাই ভালো হবে। এতে করে ডাটা এন্ট্রি যারা করবেন তাদের জন্য সুবিধা হবে। ইংরেজিতে নাম লেখার সময় Capital Letter ব্যবহার করলে ভালো হয়। ফরমের যে সমস্ত জায়গায় বাংলায় নাম লিখতে হবে- ক. ১.০ প্রাথমিক তথ্যাদির * কর্মচারীর নাম খ. ২.২ পারিবারিক তথ্যাদির ২.২.১ এ স্বামী/স্ত্রী সম্পর্কিত তথ্যাদির ৩ (তিন) নম্বর কলামে। গ. ২.২.২ এর সন্তান সম্পর্কিত তথ্যাদির ৫ (পাঁচ) নম্বর কলামে। (যাদের প্রয়োজন তারা লিখবেন।) ঘ. ২.২.৩ প্রতিবন্ধি সন্তান সম্পর্কিত তথ্যাদির ৪ (চার) নম্বর কলামে (যাদের প্রয়োজন। তারা লিখবেন।) ঙ. ৫.২ জিপিএফ নমিনি সংক্রান্ত তথ্যাদির ৪ (চার) নম্বর কলামে চ. ৯.০ চাকুরিজীবির অবর্তমানে পেনশন প্রাপ্তির উত্তরাধিকারী মনোনয়ন অংশের ৪ (চার) নম্বর কলামে। ৩। ১.০ প্রাথমিক তথ্যাদির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এর ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশনে ব্যবহৃত নম্বরটি দিতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন আইডি কিং...