সাইকেল চালানোয় কোনো ক্ষেতি নেই, বরং আছে শুধুই উপকার- এই সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু নিবন্ধ পড়া যাক--
প্রথম আলোয় ২৬ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে প্রকাশিত একটি ‘‘সাইকেল চালিয়ে সুস্থ থাকা’’ শিরোনামের একটি নিবন্ধে লুৎফুন নাহার লিখেছেন, ‘‘যাঁরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে বসে কাজ করে মুটিয়ে যাচ্ছেন, জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার সময় নেই, তাঁদের জন্য সাইকেল চালানো হচ্ছে সারা দিনের আদর্শ ব্যায়াম। এটা ব্যায়ামের সবচেয়ে সহজ উপায়। প্রয়োজন শুধু একটি দ্বিচক্রযান, আধঘণ্টা সময় ও একটু আত্মবিশ্বাস। এটি আমি আমার নিজের জীবন থেকে শিখছি।আমি ১৯৮৪ সালে জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের চর্ম রোগ বিভাগে পিএইচডি করার সুযোগ পাই। রোটারি ইন্টারন্যাশনালের বৃত্তি নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর চর্ম রোগের ওপর গবেষণা করে ১৯৮৯ সালে চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ হয়ে দেশে ফিরে আসি।
কিন্তু পাঁচ বছরের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা মোটেই সহজ ছিল না। প্রতিদিন হাসপাতালে যাওয়া, শিশু দিবাযত্ন (ডে কেয়ার) কেন্দ্রে মেয়েকে রাখা এক বিরাট সমস্যা। বাসে কিংবা পাতালরেলে গেলে সময় যেমন নষ্ট হয়, খরচও তেমনি বাড়ে। সবাই এখানে সাইকেল চালায়, প্রতিটি বাড়িতে ছোট-বড় নানান আকারের বেশ কয়েকটি সাইকেল থাকে।
তাই জাপানি বন্ধুদের পরামর্শে সাইকেল চালানো শেখার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের ছেলেবেলায় বাচ্চাকে ছোট সাইকেল কিনে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল না বিধায় জীবনে সাইকেলে চড়া হয়নি। প্রথমবারের মতো সেই ২৯ বছর বয়সে বড় সাইকেল দিয়ে চালানো শিখতে শুরু করি বাসার কাছের ‘সুরুমাই পার্কে’। জাপানি বান্ধবী উসামি পেছন থেকে ধরে থাকলেন প্রথম দিন। ‘গামবাত্তে কুদাসাই’ পার্কে বেড়াতে আসা বুড়ো-বুড়িরা হাততালি দিয়ে উৎসাহিত করলেন। ‘পায়ের দিকে না তাকিয়ে শুধু সামনে তাকাও’—জাপানি ভাষায় বলতে থাকলেন তাঁরা। দেখতে দেখতে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় একা পার্কে ঘুরে ঘুরে সাইকেল চালাতে পারদর্শী হয়ে উঠলাম। কী যে আনন্দ হয়েছিল তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। নিজের মধ্যে এক নতুন সত্তার জন্ম হলো।
প্রথম দিকে সাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় লাগত। কারণ, জাপানে ফুটপাতে সাইকেল চালাতে হয়। সেখানে আছে আরও শত শত সাইকেল এবং হাজার হাজার পথচারী। সবদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে সাইকেল চালাতে হবে। কারও গায়ের ওপর হামলে পড়া চলবে না। ধীরে ধীরে সব ভয় কেটে গিয়ে নাগোয়া শহরের এ মাথা থেকে ও মাথা সাইকেল চালিয়ে যেতাম আমি এবং আমার স্বামী। কী যে আনন্দময় ছিল সেই দিনগুলো। সকালে ছেলেমেয়েকে ডে কেয়ারে পৌঁছে দিয়ে আমি নাগোয়া মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে যেতাম। ফেরার পথে ছেলেমেয়েকে তুলে সুপারমার্কেট থেকে বাজার করে সাইকেলের পেছনের বাস্কেটে নিতাম। ছেলেকে আমার পিঠে বেবি ক্যারিয়ারে বেল্ট দিয়ে বেঁধে এবং মেয়েকে বেবি সিটে বসিয়ে জাপানি মায়েদের মতো সাইকেল চালাতাম।
সাইকেল সময় বাঁচিয়ে, খরচ কমিয়ে, ফিটনেস বাড়িয়ে জাপানি ব্যয়বহুল জীবনযাত্রাকে অনেকটা সহজ করে দিল। জাপানে প্রায় প্রতি মাসে ‘মাতসুরি’ নামের একটি উৎসব হয়। ছুটির দিনে বড় বড় পার্কে এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করা হতো। আমরা সাইকেলে সপরিবারে এসব জায়গায় উপস্থিত হতাম।
বাংলাদেশে ফিরেও আমার বাড়ির সামনে হাতিরঝিলে প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সাইকেল চালাই। কাছাকাছি কোথাও যেতে হলে সাইকেলে যাই। আমার ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নেই এবং আমার ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে।
সাইক্লিংয়ের জন্য
সাইকেল আরোহীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমাদের ফুটপাতগুলোকে একটানা সাইক্লিংয়ের উপযোগী করতে হবে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শপিং মলে সাইকেল নিরাপদে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
জাপানের মতো মালিকের নামে স্থানীয় থানায় নিবন্ধন করতে হবে।
শিশু সিটে শিশু নিয়ে সাইকেল চালানো যাবে, কখনই বড় দুজন আরোহী নয়।
হেলমেট অবশ্যই পরতে হবে।
সাইকেল চালানোর আগে
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সপ্তাহে দু-তিন দিন, তারপর আস্তে আস্তে পাঁচ-সাত দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন।
ধীরে ধীরে আপনার গতি বাড়ান।
নিরাপত্তার কথা খেয়াল রেখে হেলমেট, নিপ্যাড, এলবোপ্যাড পরুন এবং সঠিক আকারের সাইকেল বেছে নিন। প্রতিদিন বের হওয়ার আগে সাইকেলের টায়ার, পাম্প, গিয়ার ও নাটবল্টু দেখে বের হন।
কেন দরকার সাইকেল চালানো
সাইক্লিং শক্তি বাড়ায়। মনকে ফুরফুরে রাখে।
প্রতিদিন আধা ঘণ্টা সাইকেল চালালে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের (হার্ট অ্যাটাক) ঝুঁকি কমে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন আধা ঘণ্টা করে ভালো গতিতে সাইক্লিং করেন, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ কমেছে।
নিয়মিত সাইক্লিং হজমক্ষমতা (মেটাবলিক রেট) বাড়িয়ে ক্যালরি দহনে সাহায্য করে। প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ ক্যালরি পুড়ে বছরে ১১ পাউন্ড চর্বি ঝরায়। জগিং করলে যত ক্যালরি পোড়ে, প্রায় একই পরিমাণ ক্যালরি সাইক্লিংয়ে পোড়ে। তবে জগিং বা হাঁটায় জয়েন্টের ওপর চাপ পড়ে, সাইকেল চালালে হাঁটু, পায়ের গোড়ালি বা স্পাইনে তার চেয়ে কম চাপ পড়ে। যাঁদের বয়স চল্লিশের কাছে এবং হাঁটু বা স্পাইনের সমস্যা আছে, তাঁরা সাইক্লিং করলে উপকার পাবেন।
শারীরিক শক্তি এবং পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে। বাহু থেকে পা, পা থেকে হাত এবং শরীর ও চোখের উন্নতি ঘটায়।
সাইক্লিং ওজন কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা সপ্তাহে দুই দিন সাইকেলে চেপে কাজে যান, তাঁরা মাসে ৩০০০ ক্যালরি অতিরিক্ত ঝরাতে পারেন।
সাইক্লিং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত সাইক্লিং চাপ ও বিষণ্নতা দূর করে।
[ডা. লুৎফুন নাহার: চর্ম, অ্যালার্জি ও লেজার বিশেষজ্ঞ]
‘‘সুস্থতার জন্য সাইকেল চালান’’ শিরোনামে প্রথম আলোয় ৫ জুলাই ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ডা. তানজিনা হোসেন লেখেন, ‘‘কেবল একটি পরিবেশবান্ধব যানবাহন হিসেবেই নয়, বাইসাইকেল চালানো একধরনের অ্যারোবিক ব্যায়াম যা স্বাস্থ্যরক্ষায় অনেক উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। সাইকেল চালানো শুরু করতে চাইলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন। প্রথমেই অনেক বেশি জোরে ও অনেক সময় ধরে সাইকেল চালাবেন না। অনভ্যস্ততা থাকলে শরীরে ও পেশিতে ব্যথা হতে পারে। ধীরে ধীরে সময় ও গতি দুটোই বাড়ান। চালাবেন অবশ্যই সাবধানে। সাইকেল কেনার সময় নিজের উচ্চতা বুঝে কিনুন। আসুন জেনে নিই সাইকেল চালনার উপকারী দিক।
মানসিক স্বাস্থ্য: নিয়মিত সাইকেল চালানো বিষণ্নতা কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
ক্যানসার প্রতিরোধ: অন্ত্র ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমে: সপ্তাহে ২০ মাইল সাইকেল চালালে হূদেরাগের ঝুঁকি অন্তত ৫০ শতাংশ কমে যায়। সাইকেল চালানোর সময় হূ ৎস্পন্দন ও পেশিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, ঘাম হয় এবং এই সবকিছু মিলে হূদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
পেশির শক্তি বাড়ায়: সাইকেল চালনায় দেহের প্রায় প্রতিটি পেশি ও সন্ধি ব্যবহূত হয়। এটি পেশির শক্তি ও নমনীয়তা বাড়ায়। পা ও ঊরুর পেশি এবং কোমর বা হাঁটুর জন্য সাইকেল চালনা খুব ভালো।
ওজন কমে: প্রতি ঘণ্টা সাইকেল চালনায় গড়ে ৩০০ ক্যালোরি শক্তি পোড়ে। দৈনিক আধা ঘণ্টা সাইকেল চালালে এক বছর পর শরীর থেকে প্রায় পাঁচ কেজি মেদ ঝরতে পারে।
ডায়াবেটিস: দৈনিক আধা ঘণ্টা সাইকেল চালালে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাবে।
‘‘সাইকেল কেন চালাবেন?’’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ অনলাইনে ২ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, ‘‘শরীর সুস্থ রাখতে ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ দিয়েছেন সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরোনোর। অথচ সকালে বেরোতে আপনার মোটেই ভাল লাগে না, এখন উপায়? হাঁটার বদলে নিয়মিত সাইকেল চালালেও হতে পারে লাভ।
একটু গরম পড়ার সাথে সাথেই জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইকেল চালনোর ধুম পড়ে যায়৷ এর মূল কারণ কি শুধুই আনন্দ? নাকি ফিট থাকার জন্য চালানো হয় সাইকেল? নাকি এটা পরিবেশবান্ধব বলে? চলুন দেখা যাক বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন৷
অলরাউন্ড ট্রেনিং :
শরীর অথবা মন - যা-ই বলুন না কেন, ফিট থাকা বা ফিট হওয়ার জন্য সাইকেল চালানো নিঃসন্দেহে ভালো ব্যায়াম৷ নিয়মিত সাইকেল চালালে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে৷ ডায়াবেটিস, কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে গিয়ে বিপাক প্রক্রিয়া সচল থাকে৷ তাছাড়া পা এবং নিতম্বের পেশি শক্ত হয়৷ এমনকি যাঁদের হাঁটতে সমস্যা তাঁরাও কিন্তু সাইকেল চালাতে পারেন৷ এ কথা জানান, জার্মানির ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ ক্লাউস ম্যোলেনডিক৷
সঠিক সাইকেল বেছে নিন :
সাইকেল চালানো আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে তখনই, যখন চাকা এবং চালকের মধ্যে বোঝাপড়া সন্তোষজনক হয়৷ অর্থাৎ চালক যেন চাকা ঘুরিয়ে আরাম এবং আনন্দ দু’টোই বোধ করেন৷ কোন রাস্তায় চালানো হবে, অর্থাৎ সোজা না উঁচু-নীচু পাহাড়ি এলাকায় সেটি বিবেচনায় নিয়ে সাইকেল কিনতে হবে৷ চালক নারী, না পুরুষ কিংবা নিয়মিত নাকি মাঝেমধ্যে সাইকেল চালানো হবে সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানান ক্লাউস ম্যোলেনডিক৷
মানসিক চাপ কমায় :
সাইকেল চালানোর ফলে মুক্ত বাতাস শুধু শরীরই ভালো রাখে না৷ এর ফলে কমে মানসিক চাপ, খালি হয় মস্তিষ্ক ৷ আর যদি সাইকেলের রাস্তার দু’পাশে সবুজ গাছপালা থাকে তাহলে তো কথাই নেই!
সাইকেল চালান, পরিবেশ বাঁচান :
দুই চাকার সাইকেলে তেল, গ্যাস লাগে না৷ তাই পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি করেনা সাইকেল৷ কাছাকাছি যাতায়াতের জন্য জার্মানিতে শিশু থেকে বুড়ো অনেকেই ব্যবহার করেন সাইকেল। সাইকেল ব্যবহারের ফলে শরীর ফিট থাকে, খরচ বাঁচে, অন্যদিকে রক্ষা হয় পরিবেশ৷
পরামর্শ :
যাঁদের সংসার, পেশা বা শখের কারণে শরীর ফিট রাখার জন্য তেমন কিছু করার সুযোগ হয় না, তাঁদের জন্য বিশেষজ্ঞের বিশেষ পরামর্শ রয়েছে৷ ছোটখাটো কেনাকাটা, ব্যাংক বা পোষ্ট অফিসের দরকারি কাজগুলো কমবেশি সবাইকেই করতে হয়৷ তাই নিজের বাড়ির কাছের জায়গাগুলোতে যেতে সাইকেল ব্যবহার করুন৷ দেখবেন, এতেই অনেক উপকার হবে৷
এক নজরে দেখে নিন নিয়মিত সাইক্লিং করার ৯ উপকার :
১। এক ঘণ্টা সাইকেল চালালে প্রায় ৫০০ ক্যালরি কমে, মেদ ঝরানোর জন্য এটি খুবই কার্যকর।
২। নিয়মিত সাইকেল চালালে পায়ের পেশির গঠন মজবুত হয়।
৩। গোটা শরীরের ব্যালান্স করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
৪। সাইকেল চালালে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা যায়।
৫। চিকিৎসকরা আজকাল হার্ট ভালো রাখার জন্য সাইক্লিং-এর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৬। যারা নিদ্রাহীনতায় ভোগেন, তারা নিয়মিত সাইক্লিং করলে ভালো ফল পাবেন।
৭। অবসাদ কাটাতেও সাইকেল চালাতে পারেন। তবে কাজ থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম না নিয়ে সাইকেল চালাবেন না।
৮। ভরপেট খেয়ে সাইকেল চালাবেন না। সকালে উঠে সাইকেল চালাতে চাইলে হালকা কিছু খেয়েই সাইকেলে চড়ুন।
৯। তবে একই মাঠে গোল করে সাইকেল নিয়ে চক্কর খেলে কিন্তু কোনও লাভ হবে না। খোলা রাস্তায় সোজা অনেকটা পথ যেতে হবে।
‘‘সাইকেল চালাবেন যে কারণে’’ শিরোনামে প্রথম আলোয় ২৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, ‘‘গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই একসময় সাইকেল ব্যবহৃত হতো স্বল্প দূরত্বের বাহন হিসেবে। কিন্তু এই একুশ শতকে সাইকেল শুধু স্বল্প দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার বাহনই নয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাহনও বটে। শহরগুলোয় বাহন হিসেবে নয়, বরং এখন স্বাস্থ্য রক্ষা এবং স্টান্ট করার জন্য সাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা স্টান্ট নিয়ে কথা না বলে সাইকেল চালানোর স্বাস্থ্যগত সুবিধার কথা বলব আজ।
স্বাস্থ্য এবং শারীরিক দক্ষতা বাড়াতে সাইক্লিং
সাইকেল চালনার সময় আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ মাংসপেশিগুলো বিভিন্ন মাত্রায় কাজে অংশগ্রহণ করে। ফলে, পেশির গঠন দৃঢ় হয়। অন্য অনেক খেলাধুলার তুলনায় সাইক্লিংয়ে তেমন কোনো শারীরিক দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। বেশির ভাগ মানুষ সাইকেল চালাতে জানে এবং একবার শিখে ফেললে কেউ তা ভোলে না। আবার সাইকেল চালানো বারবার অনুশীলন করে আয়ত্ত করতে হয় না। তাই এটি অন্য অনেক ব্যায়াম বা শারীরিক অনুশীলনের চেয়ে সহজ। সাইক্লিং স্বাস্থ্যের গঠন ঠিক রাখে, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না এবং শারীরিক কার্যক্ষমতা ও শক্তি বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া নিয়মিত সাইকেল চালানোর ফলে পথ এবং শারীরিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করার কারণে মানুষের ধৈর্যশক্তি বেড়ে যায়।
আবার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা কিংবা আঘাত থেকে সেরে উঠে স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা ফিরে পেতে সাইক্লিং একটি চমৎকার উপায় হতে পারে। স্বল্প শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দৈনন্দিন অল্প অল্প সাইক্লিং পুনরায় স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বর্তমানে সাইক্লিংয়ের অনেক প্রতিযোগিতা এবং স্টান্ট শুরু হয়েছে, সেগুলোতে অংশগ্রহণ একই সঙ্গে আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখবে। এ ছাড়া সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে ভ্রমণের পাশাপাশি পৃথিবীব্যাপী অনেক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেগুলো একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি অবসর বিনোদনের চমৎকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিনের অনেক প্রয়োজন এবং স্বল্প পরিসরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেকোনো পরিবহনের চেয়ে সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে কম সময়ে এবং অর্থ ব্যয় না করেই তা সম্পন্ন করা যায়। বিশেষ করে যানজটের নগরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে সাইক্লিং একটি চমৎকার মাধ্যম হতে পারে।
নিয়মিত সাইক্লিংয়ের স্বাস্থ্যসুবিধা
সাইক্লিংয়ের সময় একই সঙ্গে হৃৎপিণ্ড, শিরা ও ফুসফুস কাজ করে। এ সময় গভীর শ্বাস–প্রশ্বাস এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করে। নিয়মিত সাইকেল চালালে—
১. হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়
২. শরীরের চর্বির মাত্রা হ্রাস পায়
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
৪. মানসিক উদ্বেগ ও বিষণ্নতা হ্রাস পায়
৫. পেশিশক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়
৬. অস্থিসন্ধির গতিশীলতার উন্নয়ন হয়
৭. উন্নত অঙ্গবিন্যাস ও তার সমন্বয় সাধিত হয়
৮. হাড় মজবুত হয়।
সাইক্লিং এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা
স্থূলতা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
সাইক্লিং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ বা হ্রাস করার একটি ভালো মাধ্যম। কারণ এটি হজমশক্তি এবং খাবারের রুচি বাড়ায়, পেশি গঠন করে এবং শরীরের চর্বি পোড়ায়। সাইক্লিংয়ের পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস যেকারও ওজন কমাতে সহযোগিতা করবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন সাইক্লিংয়ের পাশাপাশি সেটির পরিমাণ বাড়ালে তা যেকারও জন্য উপকারী হতে পারে।
গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে অন্তত প্রায় দুই হাজার ক্যালরি পোড়ানো যায়। তবে একেবারে নিম্নগতির সাইক্লিংয়ে এর হার প্রায় ৩০০ ক্যালরি। ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট সাইক্লিংয়ের ফলে একজন ব্যক্তির বছরে প্রায় পাঁচ কিলোগ্রাম চর্বি পুড়ে যায়।
কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং সাইক্লিং
নিয়মিত সাইক্লিংয়ের ফলে ফুসফুসসহ পুরো শরীরে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে, বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার রোগ, যেমন, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি আশঙ্কা কমে যায়। এ ছাড়া সাইক্লিং হৃৎপেশিকে শক্তিশালী করে এবং রক্তের চর্বির মাত্রা হ্রাস করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গাড়িতে চড়া লোকজনের চেয়ে যারা নিয়মিত সাইক্লিং করে কর্মক্ষেত্রে যায় অথবা দৈনন্দিন দুই থেকে তিনবার সাইক্লিং করে, তাদের ফুসফুস দীর্ঘদিন পর্যন্ত সচল ও কার্যক্ষম থাকে। ২০ থেকে ৯৩ বছর বয়সী ৩০ হাজার ব্যক্তিকে নিয়ে ১৪ বছর ধরে পরিচালিত একটি ড্যানিশ গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সাইক্লিং মানুষকে হৃদ্রোগ থেকে রক্ষা করে।
ক্যানসার এবং সাইক্লিং
অনেক গবেষক ক্যানসারের কারণ হিসেবে নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করার অনীহার কথা বলেছেন। বিশেষ করে শারীরিক অনুশীলনের অভাবে কোলন ক্যানসার এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি রয়েছে বলে জানা গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। দেখা গেছে, সাইক্লিংয়ের কারণে অন্ত্রের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। আবার কিছু কিছু গবেষণায় এটাও প্রমাণিত হয় যে নিয়মিত সাইক্লিং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
ডায়াবেটিস এবং সাইক্লিং
বর্তমানে সারা বিশ্বে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চলছে। শারীরিক অনুশীলনের অভাবে তা হয়ে থাকে বলে মনে করা হয়। ফিনল্যান্ডের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সাইক্লিং করা লোকের ৪০ শতাংশের বেশি ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
হাড়ের আঘাত, আর্থ্রাইটিস এবং সাইক্লিং
সাইক্লিং শারীরিক অঙ্গবিন্যাস, কার্যক্ষমতা ও ভারসাম্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এবং হাড়ের ফাটল ও ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। যদি কারও অস্টিওআর্থ্রাইটিস থাকে তবে দৈনন্দিন অনুশীলনের জন্য সাইক্লিং একটি আদর্শ মাধ্যম হতে পারে। কারণ, এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ–প্রত্যঙ্গে খুব কম চাপ পড়ে।
মানসিক অসুস্থতা এবং সাইক্লিং
মানসিক অসুস্থতা, যেমন: বিষণ্নতা, চাপ ও উদ্বেগ নিয়মিত সাইকেল চালানোর মাধ্যমে হ্রাস করা যেতে পারে। সাইক্লিংয়ের আনন্দ ও মজা যেকাউকে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করে।
কাজেই আর দেরি না করে একটি সাইকেল কিনে ফেলুন এবং নিরাপদ কোনো রাস্তায় নিয়ম করে পছন্দসই সময়ে সাইক্লিং শুরু করুন।
তথ্য ঋণ: বেটার হেলথ ; ম্যাগডিলিনা মৃ: নারী সাইক্লিস্ট
‘‘সপ্তাহে সাইকেল চালান অন্তত ১৫০ মিনিট’’ শিরোনামে প্রথম আলোয় ০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, ‘‘আনন্দের জন্যই হোক কিংবা কাজের তাগিদে, সাইকেল চালানো শরীরের জন্য বেশ উপকারী। নিয়মিত সাইকেল চালালে খুব ভালো ব্যায়াম হয়। আসুন, জেনে নিই এই শরীরচর্চার নানা উপকারিতা:
* নিয়মিত সাইকেল চালালে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। একজন ৮০ কেজি ওজনের ব্যক্তি এক ঘণ্টা সাইকেল চালানোর মাধ্যমে প্রায় ৬৫০ ক্যালরি ক্ষয় করতে পারেন, যা ধীরে ধীরে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
* শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে হাঁটাচলা কিংবা পরিশ্রম যাঁদের কম হয়, সারা দিন বসে কাজ করতে যাঁরা বাধ্য হন, দিনশেষে একটু সাইকেল চালনা তাঁদের সেই অভাব পূরণ করবে। হৃদ্যন্ত্রের ফিটনেস বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট সাইকেল চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। এটা হাঁটা বা জগিং করার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম, যা হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
* হাড়ের জোড়া বা সন্ধির ব্যথা কমাতেও সাইকেল চালানো উপকারী। সাইকেল চালালে হাঁটুর ব্যথা কমে। তা ছাড়া এই অভ্যাসের ফলে পায়ের মাংসপেশির শক্তি ও নমনীয়তা বাড়ে।
* মনোযোগ বাড়ানো ও লক্ষ্য স্থির করার মতো মানসিক গুণ তৈরিতে সাইকেল চালানো ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে প্রমাণ রয়েছে। নিয়মিত সাইক্লিং করলে মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা দূরে থাকে।
* সাইকেল চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং সুবিধা না থাকলে বাড়িতে বা ব্যায়ামাগারে স্থির সাইকেলের সাহায্যে শরীরচর্চা করতে পারেন। এতেও সমান উপকার পাওয়া যায়।
অধ্যাপক শামসুন নাহার
চেয়ারম্যান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
‘‘সুস্থ থাকতে সাইকেল চালান’’ শিরোনামে ডিএমপি নিউজে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, ‘‘শরীর সুস্থ রাখার জন্য সকালে উঠে হাঁটা বা দৌড়ানোর মতোই উপকারী সাইকেল চালানো। গদবাঁধা ব্যায়াম না করলেও সাইক্লিং করলে ওজন কমে দ্রুত। এছাড়াও এর রয়েছে অনেক উপকারিতা-
এক ঘণ্টা সাইকেল চালালে প্রায় ৫০০ ক্যালরি কমে। শুধু ওজনই কমে না। একই সঙ্গে পায়ের পেশির গঠনেও সাহায্য করে সাইক্লিং। পুরো শরীরের ব্যালান্স করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
মনোযোগ বাড়ে। রাস্তাঘাটে খেয়াল রেখে সাইকেল চালানোর দায়িত্ব কিন্তু কম নয়। তাই আপনার সন্তান একটু বড় হলে তার জন্মদিনেও দিব্যি উপহার দিতে পারেন সাইকেল।
সাইকেল চালালে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি হার্টও ভালো থাকে। যারা নিদ্রাহীনতায় ভোগেন, তারা সাইক্লিং করলে উপকার পাবেন। অবসাদ কাটাতেও সাইকেল চালাতে পারেন।
সাইকেল চালানোর নিয়ম:
কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন না। বাড়ি ফিরে অন্তত আধ ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে বেরোতে পারেন।
ভরপেট খেয়ে সাইকেল চালাবেন না। সকালে উঠে সাইকেল চালাতে চাইলে হালকা কিছু খেয়েই সাইকেলে চড়ুন।
তাড়াতাড়ি সাইকেল না চালিয়ে মধ্যম গতিতে একটানা অনেকক্ষণ চালানোর অভ্যাস করুন।
সাইকেল চালানোর সময়ে হেডফোন কানে গুঁজবেন না।
‘‘ওজন কমাতে সকাল বিকাল সাইকেল চালান’’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, ‘‘সকালে উঠে হাঁটতে ভাল লাগে না বা দৌড়তে ইচ্ছে করে না, এ রকম তো হতেই পারে। কিন্তু সাইকেল চালানোর কথা ভেবে দেখেছেন কখনও? সাইক্লিং করলে ওজন কমে দ্রুত।
সাইকেল চালানোর উপকারিতা:
• এক ঘণ্টা সাইকেল চালালে প্রায় ৫০০ ক্যালরি কমে।
• শুধু ওজনই কমে না। একই সঙ্গে পায়ের পেশির গঠনেও সাহায্য করে সাইক্লিং।
• পুরো শরীরের ব্যালান্স করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
• মনোযোগও বাড়ে। রাস্তাঘাটে খেয়াল রেখে সাইকেল চালানোর দায়িত্ব কিন্তু কম নয়। তাই আপনার সন্তান একটু বড় হলে তার জন্মদিনেও দিব্যি উপহার দিতে পারেন সাইকেল।
• সাইকেল চালালে যেমন ওবেসিটি, ডায়াবিটিস ইত্যাদি রোগের থাবা থেকে দূরে থাকা যায়, একই ভাবে হার্টও ভাল থাকে।
• যাঁরা নিদ্রাহীনতায় ভোগেন, তাঁরা সাইক্লিং করলে উপকার পাবেন।
• ইদানীং বহু মানুষই অবসাদের শিকার। তাই অবসাদ কাটাতেও সাইকেল চালাতে পারেন। তবে কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন না। বাড়ি ফিরে অন্তত আধ ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে বেরোতে পারেন।সাইকেল চালানোর আগে
• সাইক্লিংকে ব্যায়াম না ভেবে খেলার ছলে শুরু করুন।
• ভরপেট খেয়ে সাইকেল চালাবেন না। সকালে উঠে সাইকেল চালাতে চাইলে হালকা কিছু খেয়েই সাইকেলে চড়ুন।
• তাড়াতাড়ি সাইকেল না চালিয়ে মধ্যম গতিতে একটানা অনেকক্ষণ চালানোর অভ্যেস করুন।
• অনেকেই ছোট মাঠে বা ছাদে গোল গোল করে সাইকেল চালায়। এতে বেশি ওজন কমে না। খোলা রাস্তায় সাইকেল চালান। ভোরের দিকে চালালে বেশি গাড়ির ঝামেলা পোহাতে হবে না। তবে সাইকেল চালানোর সময়ে হেডফোন কানে গুঁজবেন না।
প্রথাগত ব্যায়াম করতে না চাইলে সাইকেল চালিয়ে দেখুন। আর চালাতে না জানলে বরং শেখা শুরু হোক এ বার।’’
Comments
Post a Comment