করোনাভাইরাসের কারণে বিগত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কওমী ছাড়া) বন্ধ রয়েছে। দফায় দফায় এই বন্ধ বৃদ্ধি করা পর সবশেষে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আগামী দু সপ্তাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার একটিট ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ছুটি বাড়ানোর এ ঘোষণা দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সীমিত পরিসরে এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা ভাবনা চলছে। সামনে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে তাদের জন্য এ চিন্তা ভাবনা।
শীত বাড়ার কারণে বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে তাড়াহুড়া না করে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সামনের বছর এসএসসি পরীক্ষা পেছানো হতে পারে কিনা সে বিষয় মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে কিনা সেটি দেখব। তা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। আমরা এখনই বলতে পারছি না পরীক্ষা পেছাবে কিনা, সেটি সময় হলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হয়ত নেয়া যাবে। এইচএসসির মতো তাদের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এতো বেশি নয়। তাদের পরীক্ষা হয়ত আস্তে আস্তে নিয়ে নিতে পারব। শিক্ষার্থীরা যেন এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। দুইমাস পর পরীক্ষা নিলে যেন না বলে প্রস্তুতি নিতে পারিনি। তাদের এখন প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা চেষ্টা করব তাদের পরীক্ষা নিয়ে নিতে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব পরীক্ষা নিয়ে নিতে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, করোনার শুরুর পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি চলছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার অনুশীলন করতে হবে। যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যা সুনির্দিষ্ট। পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসার অনুশীলন শুরু করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে যাতে এখন থেকেই শুরু হয় সেটি বিবেচনার প্রয়োজন আছে।
সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান।
উল্লেখ্য করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি রয়েছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও, এর পরিবর্তে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড়ের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ।
Comments
Post a Comment