আমার বয়স এখন ৪০। একটা সময় অনেক চেষ্টা করেছি মোটা হতে, কিন্তু পারিনি। চেষ্টা মানে এই নয় যে, মোটা হবার জন্য কোনো ঔষধ খেয়েছি! বরং যথাসম্ভব আরামে থাকার চেষ্টা করেছি। নিয়মমতো খাওয়া-দাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তবু মোটা হতে পারিনি।
কেউ কি জানেন, মোটা হবার কৌশল কী? মোটা হবার কৌশল তিনটি কাজের যোগফল।
এক. বেশি বেশি খাওয়া, দুই. আরামে আরামে থাকা, তিন. মানসিক কোনো অস্থিরতায় না ভোগা।
একসময় আমি ছাত্র ছিলাম। পড়ালেখা নিয়ে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। পরে পড়ালেখা শেষে চাকরির জন্য আরো বেশি দুশ্চিন্তা হতো। অনেক অপেক্ষার পর একটা ছোটখাট চাকরি অবশ্য পেয়েছি। চাকরি পাওয়ার পর শরীরে সামান্য পরবির্তন হয়তো এসেছে। কিন্তু মোটা যাকে বলে, সেটা এখনো হতে পারিনি। কেন পারিনি জানেন? চাকরি পাবার পর আমাকে দৈনিক ৪০ মিনিট করে দু’দফা সাইকেল চালাতে হয়। আমার কর্মস্থল ৪০ মিনিটের সাইকেলের পথ বলে। তাহলে আরামে আরামে থাকতে পারলাম কই?
মোটা হতে না পারার একটা আক্ষেপ ছিল। মোটা হবার আগ্রহ ছিল কেন জানেন?
মোটা হলে মানুষকে তুলনামূলক বেশি স্মার্ট দেখায়, মোটা হলে সমাজের একজন সদস্য হিসেবে যে কোনো সভায় মানুষকে বেশি শোভা পায়, মোটা হলে মানুষকে বেশি রাশভারি দেখায় ইত্যাদি কারণেই মূলত মোটা হতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু এরই মধ্যে ২০১৬ সালের দিকে উপলব্ধিতে আসতে শুরু করলো, মোটা হওয়া বরং চিকন থাকার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। চিকন আছি ভালোই আছি। মোটা হতে পারিনি, আর কখনো মোটা হবার দরকারও নেই। মোটা হয়ে গেলেই বরং বিপদে পড়তাম। মোটা হওয়া সহজ, চিকন হওয়া সহজ নয়।
আর কখনোই মোটা হতে চাইবো না।
প্রধান কারণ, মোটা মানুষদেরকেই কিছু মারাত্মক রোগ আক্রমণ করে বেশি।
রোগ কেন মোটা মানুষকে বেশি বেশি আক্রমণ করে? কারণ মোটা মানুষের শরীরে চর্বি-কোলেস্টেরল বেশি থাকে।
চর্বি-কোলেস্টেরলের লোভেই কিছু রোগ মানুষের শরীরে ভীড় জমায়। রোগগুলো হলো: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক)।
শরীরে এমনিতেই অনেক রোগ বাসা বেঁধেছে, কোনো চিকিৎিসায় কাজ হচ্ছে না, নতুন কোনো রোগকে পারমিশন দেয়ার দরকার নেই।
আমি একটি বই লিখেছি এই রোগগুলোর প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে, আপনারা অনেকে জানেন।
বইটিতে শুধু একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘দৈনিক অন্তত ৪০ মিনিট ঘামঝরানো শারীরিক পরিশ্রম করলেই মানুষ রোগ তিনটি থেকে রক্ষা পাবে।’’
বইটিতে বলা হয়েছে, মোটা হবার চেয়ে চিকন থাকা শ্রেয়। মোটা মানুষগুলোর উচিত চিকন হয়ে যাওয়া।
চিকন হতে না পারলেও অন্তত দৈনিক ৪০ মিনিটের মতো সময় শারীরিক পরিশ্রমের যে কোনো কাজ করা।
আমি এখন চিকন থাকারই চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছি এবং সেজন্য কম কম খাওয়ার পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রমও করে যাচ্ছি।
আশা করি আপনারাও, যারা এখনও চিকন আছেন, মোটা হবার সব চেষ্টা বাদ দেবেন। আর যারা ইতোমধ্যে মোটা হয়ে গেছেন, ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন। আশা করি রোগ তিনটি আপনার নাগাল খুঁজে পাবে না।
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় শিরোনামে এইটি বই পড়ুন সম্পূর্ণ অনলাইনে, ঘর শুয়ে-বসে। বইটি পড়লে আপনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাক এই তিনটি গুরুতর রোগের সঠিক কারণ এবং এই তিনিটি রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সঠিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
Comments
Post a Comment