আমাদের যাদের বয়স এখন ৪০ বা তার চেয়ে বেশি, তারা দেখেছি, গত ২৫ বছর আগে মানুষের জীবনে কতো না পরিশ্রমের কাজ ছিল! মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোথাও যাবার সময় পায়ে হেঁটেই যেতো। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রমের অনেক অনেক কাজ ছিল, মানুষকে বাধ্যগতভাবে যেগুলো করতে হতো।
অধিকাংশ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত ছিল বলে পুরুষদেরকে যেমন বছরের প্রায় সবসময় বিভিন্ন রকম কৃষিকাজ করতে গিয়ে ফসলের জমিতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হতো, নারীদেরকেও ওসব ফসল বাড়িতে তুলে আনার পর সেগুলো সংরক্ষণ ও খাবারের উপযোগী করতে গিয়ে অনেক ঘাম ঝরাতে হতো। ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গানো সহ অসংখ্য শারীরিক শ্রমনির্ভর কাজে নারীরা জড়িত থাকতো।
কিন্তু বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে মানুষ ফসলের জমিতে কাজ করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে, সময় নেই, জনবল নেই বা নগদ টাকা থাকায় বাজার থেকে কিনে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে বলে।
মানুষের যাতায়াতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। পরিবহন এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন ও উন্নতি আসার কারণে মানুষ এখন সামান্য দূরত্বও অতিক্রম করছে যানবাহনে চড়ে; হেঁটে যাওয়া, সাইকেলে যাওয়ার প্রবণতা অনেক অনেক হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে রিকশাঅলারা আগে রিকশা চালাতে গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হতো, এখন ব্যাটারীচালিত রিকশা চলে আসায় সবাই পরিশ্রমসাধ্য রিকশা পরিত্যাগ করে আরামসাধ্য রিকশা চালাতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে।
এককথায় শারীরিক পরিশ্রম থেকে মানুষের জীবন গত প্রায় ২৫ বছর ধরে অনেক অনেক দূরে সরে গেছে, ভবিষ্যতে আরো যাবে।
এই পরিশ্রম না করার প্রবণতা মানুষের শরীরে মেদ-চর্বি-কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। আর শরীরে চর্বি বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেলে শরীরে দেখা দেয় প্রথমে উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার), পরে সেই উচ্চ রক্তচাপ থেকে জন্ম নেয় ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক)।
শুধুই শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে সরে যাওয়া মানুষগুলোই এই রোগ তিনটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন, অনেকে অল্প বয়সেও আক্রান্ত হচ্ছেন। আর যারা এখনো কোনো কারণে শারীরিক পরিশ্রমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন, দেখা যায় তারা ৭০ বছর বয়সে এসেও এই রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন।
বিষয়টা বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন আপনিও। কী করবেন এবার, ভেবে দেখুন!
হ্যাঁ, শারীরিক পরিশ্রমের কাজে আবার ফিরে যেতে হবে আমাদেরকে। নয়তো রোগগুলোর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যাবে না কোনোভাবে।
পৃথিবীর বহু দেশের সচেতন মানুষ শারীরিক পরিশ্রমের কাজ না থাকলেও শারীরিক পরিশ্রম করেন নিয়মিত। বেশিরভাগই জগিং করেন, অনেকে নিয়মিত ব্যায়াম করেন।
যারাই নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করে থাকেন, তারাই বেঁচে থাকেন এই রোগগুলো থেকে। আপনিও বাঁচুন রোগগুলো থেকে, নয়তো জীবন হবে অনেক অনেক কঠিণ। ঠিকমতো খেতেও পারবেন না। পছন্দের অনেক খাবার পরিত্যাগ করতে হবে বা খেলেও খেতে হবে একেবারে স্বল্প পরিমাণে। ঔষধ নির্ভর জীবন যাপন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, জীবনে আর কখনো রোগগুলো থেকে মুক্তি পাবেন না, একবার যদি রোগগুলোর কোনোটি আপনাকে পেয়ে বসে।
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় শিরোনামে এইটি বই পড়ুন সম্পূর্ণ অনলাইনে, ঘর শুয়ে-বসে। বইটি পড়লে আপনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাক এই তিনটি গুরুতর রোগের সঠিক কারণ এবং এই তিনিটি রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সঠিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
Comments
Post a Comment