মোটা মানুষরাই বেশি বেশি আক্রান্ত হয় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাকে (হৃদরোগ), বাস্তবতার সাথে এটাই সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি। মোটা হবার সাথে যদি আরামে থাকা এবং বেশি বেশি খাওয়া একত্রিত হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য একসাথে কোনো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকলে সে এই রোগগুলোতে আক্রান্ত হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ আমরা আরেকটা অধ্যায়ে জেনেছি, ‘‘মানুষের শরীরে চর্বি-কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে সেগুলোর লোভেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের (হার্ট অ্যাটাক) মতো রোগগুলো মানুষের শরীরের দিকে তেড়ে আসে। আর সাধারণত ¯ূ’’ল বা মোটা মানুষের শরীরেই চর্বি-কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে।’’
আমাদের চারপাশে আমরা চোখ মেলে দেখলে এটা আমাদের নিকট দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হবে, সমাজের ঐ সমস্ত সদস্যরাই এই তিনটি রোগের কোনো একটিতে বা কয়েকটিতে আক্রান্ত, যারা শারীরিকভাবে মোটা বা স্থূল। মাঝে মাঝে এমন লোকও পাওয়া যায়, যারা চিকন, তবু এসব কোনো রোগে আক্রান্ত। এরকম কেন হচ্ছে?
আপনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, এই প্রকারের লোকদের অনেকেই আগে মোটা ছিল, কিন্তু এরকম কোনো রোগে আক্রান্ত হবার পর খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়ে বা ব্যায়াম করে শরীরের ওজন কমিয়ে ফেলেছে। এটা ঠিক, মাঝে মাঝে চিকন লোকদেরকেও রোগগুলো আক্রমণ করে বসে। যদি এরকম কোনো ঘটনা আপনার চোখে পড়ে, দেখবেন লোকটি কোনো শারীরিক পরিশ্রমের সাথেই সম্পর্কিত নয় অথবা একসময় শারীরিক পরিশ্রমের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কিন্তু হঠাৎ ছেড়ে দিয়েছে।
এই ব্যতিক্রমগুলো বাদ দিলে দেখা যাবে এসব রোগে আক্রান্ত ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৮০ জনই মোটা। তাই এসব রোগকে পথেই আটকে দিতে হলে মোটা থাকা যাবে না বা আগে থেকেই চিকন হয়ে থাকলে মোটা হওয়ার চেষ্টাটাকে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
আমরা যারা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ইতোমধ্যে মুটিয়ে গেছি, আমাদের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, চিকন হতে চেষ্টা করা, ওজন কমিয়ে ফেলা।
দেরি করলেই বিপদ হতে পারে, রোগগুলোর কোনোটি আমাদের শরীরে বাসা বেঁধে বসতে পারে। একবার বাসা বাঁধলে এই রোগগুলো আমাদের মৃত্যুর আগে আমাদেরকে ছাড়বে না, এটা নিশ্চিত। শুধু তা-ই নয়, এই রোগগুলো পরস্পর বন্ধু হবার কারণে কারো শরীরে একটি কোনোভাবে বাসা বাঁধতে পারলে অন্যগুলোকেও ডেকে নিয়ে আসে। একটি রোগ কারো শরীরে বাসা বাঁধতে পারলে অন্য রোগগুলোও পথ চিনে যায়। যে কোনো সময় অন্য রোগগুলোও এসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হামলা করে বসে।
আর একসাথে দু’তিনটি রোগের কবলে পড়লে জীবন কত কঠিন হয়ে যায়, তা আমরা আমাদের পরিচিত ঐসব মানুষদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারবো, যারা এরকম দু’তিনটি রোগে ভুগছে, ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের উচিত দেরি না করে চিকন হবার প্রচেষ্টা শুরু করা।
আরেকটা কথা। অনেকে চিকন হতে চেষ্টা করেও চিকন পারে না। চিন্তার কোনো কারণ নেই। যদি চিকন হতে পারা না-ও যায়, অন্তত দৈনিক ৪০ মিনিটের মতো সময় ঘামঝরানো শারীরিক পরিশ্রমের কোনো না কোনো কাজে সময় দিলে মোটা হওয়া সত্ত্বেও রোগগুলো আর আক্রমণ করতে পারবে না। কারণ তখন শরীরে চর্বি-কোলেস্টেরল থাকলেও তা অতিরিক্ত হতে না পেরে নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নিয়ন্ত্রিত চর্বিতে রোগগুলো জন্ম নিতে পারে না।
এজন্য আমরা আমাদের পরিচিত অনেককে দেখি, যারা মোটা, কিন্তু নিয়মিত কায়িক শ্রম করে থাকেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে খেয়েও থাকেন, তবু রোগগুলো থেকে মুক্ত।
এককথায়, চিকন হতে পারলে ভালো, তবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও চিকন হতে না পারলে চিন্তিত না হয়ে শুধু কায়িক শ্রমে সময় দিন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়, অন্তত ৪০ মিনিট করে, বেশি পারলে ভালো, আপনাকে এরকম কোনো রোগ স্পর্শ করতে পারবে না।
আর যারা চিকন আছেন, ভুলেও মোটা হতে চাইবেন না!
Comments
Post a Comment