বংশগত রোগ নিয়ে মনের ভয় দূর করুন...
বংশগত রোগ নিয়ে অনেক ভুল ধারণায় আমরা বিশ্বাসী। অনেকেই মনে করেন, বাবা-মা বা পূর্বপুরুষরা যেসব রোগে আক্রান্ত ছিলেন, আমরা সেগুলোতে আক্রান্ত হবার অর্থই হলো আমাদের রোগগুলো বংশগত, অন্য কোনো কারণে নয়।
কিন্তু আমরা কি জানি, একটি রোগ কিভাবে বংশগতভাবে হতে পারে? অনেকেই জানি না।
আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন আর আপনি যদি দেখেন আপনার বাবা-মা কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস তাদের কাছ থেকে আপনার মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিল কিনা, তা যাচাই করার একমাত্র উপায় হলো, আপনাকে দেখতে হবে, আপনার জন্মের সময় আপনার বাবা-মা কি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল, নাকি আপনার জন্মের অনেক পর তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছিল?
আপনার জন্মের সময় তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে দেখতে হবে, আপনিও কি আপনার জন্মের সময় থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত? যদি আপনিও আপনার জন্মের সময় থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত হতে পারেন, আপনার ডায়াবেটিস বংশগতভাবে আপনার মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে? নয়তো নয়। অর্থাৎ যদি আপনার জন্মের সময় আপনার বাবা-মা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন, আপনার জন্মের অনেক পর তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের সেই ডায়াবেটিস আপনার মধ্যে সংক্রমিত হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং এই জন্য আপনার ডায়াবেটিস বংশগত নয়।
এছাড়া যদি আপনার বাবা-মা আপনার জন্মের সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন আর আপনার জন্মের সময় থেকে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হয়ে জন্মের ১৫-২০ বছর পর আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন, আপনার ডায়াবেটিস বংশগত নয়।
আপনি দেখবেন, অনেক সন্তান এলার্জি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাদের বাবা/মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে। কারণ সন্তানটি জন্মের সময় তার বাবা/মা কেউ এলার্জিতে আক্রান্ত ছিল। আমার একটি সন্তানের ক্ষেত্রেও এমন ঘটেছে। এটাই কোনো রোগ বংশগতভাবে সংক্রমিত হবার একমাত্র উপায়। কিন্তু বাবা/মা কেউ এলার্জিতে আক্রান্ত না হওয়া অবস্থায় সন্তানের জন্ম হবার অনেক পর যদি তার বাবা/মা কেউ এলার্জিতে আক্রান্ত হয়, তাহলে বাবা/মায়ের সেই এলার্জি সন্তানকে সংক্রমতি করার কোনো সুযোগ নেই। মোটেই নেই। শুধু এই বিষয়টি জানা না থাকার কারণে বংশগত রোগ নিয়ে আমাদের অজ্ঞতা চরমে।
বংশগতভাবে আক্রান্ত হবার এই মূল কারণটার দিকে লক্ষ্য না করে যেকোনো রোগকে বংশগত বলে আখ্যায়িত করার একটা মারাত্মক প্রবণতা চতুর্দিকে লক্ষ্য করা হয়। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ডাক্তাররাও মানুষের মধ্যে এই ভুল ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে ব্যাপকহারে ও মারাত্মকভাবে। কোরো ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগী ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার প্রশ্ন করেন, আপনার বাবা-মা কারো রোগটি ছিল কিনা? রোগী হ্যাঁ বললেই হলো। ডাক্তাররা তার রোগটিকে বংশগত বলে আখ্যায়িত করতে দু’বার ভাবে না। কিন্তু রোগী হ্যাঁ বলার পর কোনো ডাক্তার কখনো রোগীকে এই পাল্টা প্রশ্নটি করেন না, ‘আপনার জন্মের সময় কি তারা রোগটিতে আক্রান্ত ছিল? নাকি তারা আপনার জন্মের অনেক পরে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে?’
এটা বংশগত রোগ সম্পর্কে মানুষের এক ভয়াবহ অজ্ঞতা। এই অজ্ঞতার একটি মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। সেটা পরে আলোচনা করা হবে।
আগে বলুন, আপনি রোগগুলোতে আাক্রান্ত হবার আগে যদি আপনার বাবা-মা কেউ রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে তারা যেই কারণে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে, আপনিও কি সেই একই কারণে রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারেন না? আপনার রোগটি তাদের কাছ থেকেই প্রাপ্ত হতে হবে কেন?
ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে এই ভুল বিশ্বাসগুলোর মূল কারণ হচ্ছে, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ- এই রোগগুলোর মূল কারণ সম্পর্কে আমাদের মারাত্মক অজ্ঞতা। যে যা-ই বলে, আপনি নিশ্চিত থাকুন, এই রোগগুলোর মূল কারণ শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকা। আরো দুটি কারণ হচ্ছে- মোটা হওয়া এবং বেশি খাওয়া।
আপনি পেছনে ফিরে দেখুন, আপনার বাবা-মা যখন থেকে শারীরিক পরিশ্রমের কাজকর্ম ছেড়ে দিয়েছে, তখন থেকেই তারা রোগগুলোতে আক্রান্ত হয়েছে। আপনিও শারীরিক পরিশ্রম করছেন না বলেই রোগগুলোতে আক্রান্ত হয়েছেন, সন্দেহ নেই। দেখবেন, যারা এখনো নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের কাজকর্মে নিয়োজিত, তারা কেউই রোগগুলোতে আক্রান্ত নয়। আমার পরিচিতজনদের মধ্যে অনেক মানুষ আছে এই রকম, যারা অনেক বছর ধরে কায়িক শ্রমের পেশায় নিয়োজিত, কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হ্রদরোগ থেকে তারা পুরোপুরি নিরাপদ।
রোগগুলোকে বংশগত ভেবে আপনি যখন দেখবেন আপনার বাবা-মা কেউ রোগগুলো আক্রান্ত ছিলেন, তখন আপনি রোগগুলো প্রতিরোধের কোনো চেষ্টা করবেন না। ফলে একসময় রোগগুলোতে আক্রান্ত হয়ে পড়বেন। এটা অবশ্যই রোগগুলোকে বংশগত বলে প্রচার করার একটি বড় ক্ষতিকর দিক।
আর যদি আপনি বিশ্বাস করেন, রোগগুলো বংশগত নয়, বরং শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকলেই রোগগুলো মানুষকে আক্রমণ করে এবং এই বিশ্বাস নিয়ে আপনি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন (দৈনিক অন্তত ৪০ মিনিট), তাহলে রোগগুলো কোনোভাবেই আপনাকে আক্রমণ করার সুযোগ পাবে না।
আমি নিশ্চিত। আপনিও নিশ্চিত থাকতে পারেন।
দীর্ঘজীবন লাভের উপায়
শিরোনামে এইটি বই পড়ুন সম্পূর্ণ অনলাইনে, ঘর শুয়ে-বসে। বইটি পড়লে আপনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাক এই তিনটি গুরুতর রোগের সঠিক কারণ এবং এই তিনিটি রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সঠিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
Comments
Post a Comment