ওজন কমানোর সহজ ও কার্যকর উপায়
‘মেদ-ভুঁড়ি কী করি?’- এরকম শিরোনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক বিজ্ঞাপন পত্রিকায় মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। বুঝা যায় মেদ-ভুঁড়ি থেকে অনেকেই মুক্তি পেতে চায় বলেই মেদ-ভুঁড়ি কমানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। অনেকে হয়তো শুধু চলাফেরা ও স্বাভাবিক কাজকর্মে অসুবিধার জন্যেই মেদ-ভুঁড়ি কমাতে উঠে পড়ে লেগে যান। শুধু স্বাভাবিক চলাফেরার জন্য নয়, সুস্থ জীবনযাপনের জন্যও মেদ-ভুঁড়ি তথা ওজন কমানো দরকার।
* প্রতিদিন যারা সাধারণত তিনবেলা খেতে অভ্যস্ত, তারা একবার কম খাওয়া উচিত। বিশেষ করে রাতের খাবার। দিনের খাবার বাদ দিতে গেলে বিপদ হতে পারে।
* রাতের খাবার বাদ দিতে গিয়ে একেবারে খালিপেটে না থেকে ক্ষুধা দূর করার জন্য সামান্য কিছু খেতে পারেন। রুটিও খাওয়া যেতে পারে। পানি বেশি করে পান করলেও ক্ষুধার তীব্রতা কম অনুভূত হয়।
* ক্ষুধা অনুযায়ী বা চাহিদামতো পেটভরে খাওয়া যাবে না কোনো বেলাতেই। কিছু ক্ষুধা রেখে দিয়ে খাওয়া শেষ করতে হবে।
* শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে হবে বেশি বেশি। শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম বা খেলাধুলা করতে হবে।
* যাদের এখনো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ নেই, তারা খালিপেটে ব্যায়াম করতে হবে। তবে একেবারে খালিপেটে নয়, দু’তিন গ্লাস পানি অবশ্যই পান করে নিতে হবে। খালিপেটে যতো বেশি ব্যায়াম করা যায়, ততো শরীরের ওজন কমে।
* যাদের এরকম কোনো রোগ আছে, তারা কিছু খেয়ে ব্যায়াম করতে হবে।
* সর্বোপরি যতো বেশি ব্যায়াম বা পরিশ্রম করা যাবে আর কম কম খাওয়া যাবে, ততোই ওজন কমতে পারে।
🔹 ওজন কমানোর উপায় নিয়ে মতভিন্নতা
ওজন কমানোর জন্য প্রথমেই বলা হয়েছে দৈনিক একবেলা কম খাওয়ার কথা। কথাটি নিয়ে ভিন্নমত আছে জেনে অবাক হলাম। ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সংখ্যা প্রথম আলোয় (অধুনা পাতা) হেলথ ডটকম অবলম্বনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ‘ওজন কমাতে কিছু অভ্যাস’ শিরোনামে। সেখানে ওজন কমানো সম্পর্কে বলা হয়, ‘খুব বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। অফিস বা ক্লাসের ফাঁকে খাওয়ার সময় নেই একদম। সঙ্গে কেউ নেই বা আশপাশে পছন্দমতো খাবারের দোকান নেই, এ ধরনের সমস্যায় সহজেই সকাল, দুপুর বা রাতের খাবার বাদ দেন অনেকে, যা একদিকে স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে এতে ওজন বাড়তে থাকবে দ্রুত।’
কম খেলে ওজন দ্রুত বাড়ে, এমন কথা বাস্তবতার সাথে কিভাবে মেলানো সম্ভব, আমার বুঝে আসে না। যে পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশিত হলো, সে পত্রিকাতেই (প্রথম আলো অধুনা পাতা) ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে এরকম আরেকটি লেখা ছাপা হয় ‘ওজন কমানোর তিন সহজ উপায়’ শিরোনামে। সেখানে কম খাওয়ার সাথে ওজন কমানোর সম্পর্ক নিয়ে বলা হয়, ‘আপনার খাওয়া কমিয়ে দিন। তবে কখনোই না খেয়ে থাকবেন না।’
একই পত্রিকায় একই বিষয়ে দু’রকম বক্তব্য। মানুষ কোন্ পন্থা অবলম্বন করবে! আমার বিশ্বাস, এই কথায় সবাই একমত, বেশি বেশি খেলে মানুষ মুটিয়ে যায়, মানুষের ওজন বৃদ্ধি পায়। যদি বেশি খেলে মানুষের ওজন বৃদ্ধি পায়, তাহলে কম খেলে ওজন কমবে, নাকি বাড়বে?
🔹 ওজন কমানোর জন্য শসা খাওয়া প্রসঙ্গে
এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা। মেদ-ভুঁড়ি বা চর্বি কমানোর জন্য অনেককে দেখা যায় খাবারের সাথে খুব আগ্রহসহ শসা খেতে। চর্বি কমানোর জন্য যারা এভাবে শসা খায়, তাদের কারো কখনো কোনো উপকার হয়েছে কিনা, জানি না। আমার মনে হয় শসা খেলে কখনো চর্বি কমবে না, যদি সবসময় পেটভরে খাওয়া হয় বা ক্ষুধা লাগলে সাথে সাথে খাওয়া হয়। চর্বি কমাতে হলে ক্ষুধাকে জিইয়ে রাখতে হবে। ক্ষুধা লাগলেই সাথে সাথে না খেয়ে এক-দেড় ঘন্টা পর খেতে হবে। ক্ষুধা লাগার সাথে সাথে না খেলে কেউ মরে যায় না। পেটভরেও খাওয়া যাবে না। শুধু কায়িক শ্রমের কোনো কাজের সময় পেটভরে খাওয়া যাবে। আশা করি মেদ-চর্বি তথা ওজন কমাতে যারা মরিয়া, তাদের উপকার হবে কথাগুলো অনুসরণ করলে।
নূর আহমদ : শিক্ষক; কলামিস্ট।
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় শিরোনামে এইটি বই পড়ুন সম্পূর্ণ অনলাইনে, ঘর শুয়ে-বসে। বইটি পড়লে আপনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাক এই তিনটি গুরুতর রোগের সঠিক কারণ এবং এই তিনিটি রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সঠিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
https://web.facebook.com/nurahmad.teacher
ReplyDelete