হাঁটা মানুষকে বেশ কিছু
রোগ থেকে নিরাপদ
রাখে
নূর আহমদ
স্বাস্থ্য সকল
সুখের
মূল
বাংলা
ব্যাকরণে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ। যুগ যুগ এই প্রবাদ প্রচলিত।
স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য মানুষের আয়োজনের কমতি থাকে না। নিজেকে সুস্থ ও ভালো রাখতে
কত কিছুই না করে। কিন্তু
অনেকেই সুখ খুঁজে পায় না এবং শরীর
ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। ছোট্ট একটি ‘টনিক’ই আপনার স্বাস্থ্য
ও শরীর ভালো রাখতে পারে। হাঁটুন। হাঁটলে শারীরিকভাবে ভালো থাকার পাশাপাশি ত্বকও ভালো থাকে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি চুল ভালো থাকে, হজমশক্তি বাড়ে। মানসিক ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি মনোবল বাড়ায়। নিয়মিত হেঁটেই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন ষোলো আনা।
[দীর্ঘজীবন লাভের উপায় শিরোনামে এইটি বই পড়ুন সম্পূর্ণ অনলাইনে, ঘর শুয়ে-বসে। বইটি পড়লে আপনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাক এই তিনটি গুরুতর রোগের সঠিক কারণ এবং এই তিনিটি রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সঠিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।]
ভারী
শরীরচর্চা করার সময়-সুযোগ এই ব্যস্ততার জীবনে
আজকাল অনেকেরই থাকে না। তবে ভালো থাকার জন্য নিয়মিত একটু হলেও শারীরিক পরিশ্রম জরুরি।
প্রতিদিন সকালের হাঁটার সময় বিশুদ্ধ বাতাস ও সুন্দর পরিবেশ
আপনার হৃৎপিন্ড ও মনের কর্মক্ষমতা
বাড়িয়ে তুলবে। হাঁটার সময় হৃৎপিন্ড শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করে। ফলে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ ও সচল থাকে।
নিয়মিত হাঁটার
উপকারিতা
নিয়মিত হাঁটাহাঁটি
করলে মানুষ কিছু গুরুতর রোগের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকে। বিশেষ করে উচ্চরক্তচাপ,
ডায়বেটিস, হার্ট
অ্যাটাক (হৃদরোগ) থেকে মানুষ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। আর যারা এই রোগগুলোতে ইতোমধ্যে
আক্রান্ত, তাদরে এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে।
নিয়মিত
হাঁটলে মানুষের ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
দৈনিক কত
সময়
হাঁটবেন?
প্রতিদিন
কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫
মিনিট হাঁটুন। এছাড়া যদি হাঁটতে ভালো লাগে তবে হাঁটার সময়টা ১ ঘণ্টা পর্যন্তও
হতে পারে। এছাড়া যারা বেশি হাঁটতে পারে না তারা ওই
৪০ মিনিট হাঁটার সময়ে ১০ মিনিটের বিরতি
দিতে পারেন। পাঁচ দিন ৪০ মিনিট করে
২০০ মিনিট হাঁটলেও আপনি সুস্থ থাকবেন। তবে কখনই ৪০ মিনিটের কম
হাঁটা উচিত হবে না। তবে বয়স্ক ব্যক্তিদের হাঁটার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাঁটার গতি
কেমন
হবে
হাঁটার
সময় অনেকে বুঝতে পারেন না যে, হাঁটার
গতি কেমন হবে। তবে হাঁটার জন্য তেমন নির্দিষ্ট কোনো গতি নেই। প্রথমে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করার পর আস্তে আস্তে
গতি বাড়াতে হবে।
হাঁটাহাঁটির কিছু
নিয়ম
প্রতিদিন
হাঁটতে যাওয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন আপনার পোশাকটি যথেষ্ট আরামদায়ক এবং হাঁটার উপযোগী কিনা। হাঁটার আগে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরে নিন। হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতা কিনে নিন। সঙ্গে অবশ্যই খাবার পানি রাখুন। প্রতি ১৫ মিনিট পরপর
পানি পান করুন অল্প করে। তাহলে সকালের হাঁটার অভ্যাসটা উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
* ঘুম
থেকে উঠেই হাঁটা দেবেন না। ফ্রেশ হয়ে পানি পান করে রিল্যাক্স মুডে হাটুন।
* ঘুম
থেকে তাড়াতাড়ি ওঠার অভ্যাস করুন। মর্নিং ওয়াক-এ একা যাবেন
না। স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে হাটুন।
দেখবেন দু’জনে এক
সাথে হাঁটলে এক ঘেয়ে লাগবে
না। একজোট হয়ে ক’বন্ধু মিলেও
হাটতে পারেন।
* প্রতিদিন
নির্দিষ্ট সময় ধরে হাঁটুন কম করে ৮
সপ্তাহ হাঁটার পর ফল পাবেন।
* অফিসে
কফি ব্রেকে বা লাঞ্চ ব্রেকে
সিটে বসে না থেকে করিডোরেও
হাঁটতে পারেন। বাইরে খেতে গেলে গাড়ি একটু দূরে পার্ক করুন। এ সুযোগেও কিছু
হাঁটা হয়ে যাবে।
* ওয়াকিং
ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। অনেক সঙ্গী সাথী পাবেন হাঁটার জন্য।
* প্রথম
৬ মাস নিয়মিত হাঁটার জন্য নিজেকে পুরস্কৃত করুন। এর জন্য নির্দিষ্ট
একটা প্ল্যান করুন।
* একদিন
হাঁটা সম্ভব না হলে পরের
দিন পুষিয়ে নেবার চেষ্টা করুন। অন্তত ১০ মিনিট বেশি
হাটুন।
* সকাল
বেলা হাঁটার সময় না পেলে দিনের
যে কোনও সময় হাঁটতে পারেন।
* বাড়িতে
যতটা সম্ভব হাঁটতে চেষ্টা করুন। হাঁটা শেষ করে টিভি, এসি অন করুন।
* হাঁটার
সময় রিল্যাক্স থাকুন। পজিটিভ বিষয়ে ভাবুন। অথবা গান গাওয়া, গান শোনা, কবিতা, আবৃত্তি করতে পারেন।
* প্রতিদিন
একই জায়গায় না হেঁটে রাস্তা
বদল করুন। ছুটির দিনে স্বাস্থ্যকর স্থানে হাঁটার চেষ্টা করুন।
* হাঁটার
সময় আইপড বা রেডিও প্লেয়ার
নিয়ে হাঁটুন। মন খুশি থাকবে।
তবে যানবাহনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
* আবহাওয়া
খারাপ হলে বারান্দায় অথবা ঘেরা ছাদে হাঁটতে পারেন। ফ্ল্যাটে হলে প্রতিটি রুমে একবার করে হাঁটা দিন।
* হাঁটতে
হাঁটতে হাঁপিয়ে উঠলে সাথে সাথে পানি পান করবেন না। ৪-৫ মিনিট
রিল্যাক্স করুন। এরপর পানি খান। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হবার
আগে পানি পান করলে সর্দি-জ্বর দেখা দিতে পারে।
* মা-বাবা, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির পক্ষে পার্কে যাওয়া সম্ভব না হলে ছাদে
হাঁটতে বলুন। হাঁটার জন্য উৎসাহি করুন।
* যারা
হার্টের রোগ, মৃগী রোগের জন্য ওষুধ খান, তাদের রোদে বের হলে দ্রুত ফটো পিগমেন্টেশন সম্ভাবনা থাকে। তাই সানক্রিন লোশন ব্যবহার করুন।
* হাঁটার
সময় পায়ের সাথে হাতও সচল রাখুন।
এক
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০
মিনিট হাঁটলে অকাল-মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৪ শতাংশ কমে
যায় এবং ৬১-৮১ বছরের
মহিলা এবং পুরুষরা যদি প্রতিদিন দুই মাইল হাঁটতে পারেন তাহলে যেকোনো ধরনের অসুখের থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়।
কমপক্ষে তিনটি
রোগ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটুন: উচ্চরক্তচাপ, ডায়বেটিস, হার্ট
অ্যাটাক।
Comments
Post a Comment