অর্থনৈতিক সংকটে দেশে দেশে নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি বৃদ্ধি
সময় নিউজ রিপোর্ট
বিগত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিম্ন আয়ের মানুষরা স্বাভাবিক জীবন যাপনে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে, করোনা মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বিশ্ব। প্রায় প্রত্যেকটি দেশই এই সংকটে পড়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমেছে। অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং অন্যান্য পণ্যের মূল্যে ঊর্ধ্বগতির ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা এর মধ্যেই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে এবং তাদেরকে কোনোভাবে সহায়তা দিতে না পারলে, তারা যে সংকটে পড়বে, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে তাদের ওপর এই বাড়তি চাপ কমাতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির দাম কমানো, আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া, রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বহু উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: জাতীয় বেতন স্কেলের পুনর্বিন্যাস নিয়ে কিছু প্রস্তাব
জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাকরিজীবীদের বেতনের সঙ্গে এককালীন ৩০০ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। এছাড়া তিন মাসের জন্য পেট্রোল-ডিজেলের কর এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমানো হয়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে গত ৩ আগস্ট ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ পাস করেছে ফরাসি পার্লামেন্ট। এতে পেনশনসহ বেশ কিছু কল্যাণমূলক ভাতার পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের আরও বেশি করমুক্ত বোনাস দিতে কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গত জুলাই মাসে সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আমিরাতে নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আর সৌদি বাদশাহ সালমান ৫০ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
তুরস্কে গত জুলাই মাসে সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ৫০ শতাংশ।
প্রতিবেশী দেশ জাপানে গত এপ্রিলে ৯ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় গ্যাসোলিনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভর্তুকি এবং বাচ্চা রয়েছে এমন নিম্নবিত্ত পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়লে সহায়তাও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সম্প্রতি ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট অব ২০২২’ নামে প্রায় ৪০ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা পাস হয়েছে। এতে ওষুধের দাম কমানো, করপোরেট কর বাড়ানো, জ্বালানি সাশ্রয়ে উৎসাহ দিতে আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সেজন্য সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন বৃদ্ধি সহ মানুষের সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি করার কোনো বিকল্প নেই।
[দৈনিক দেশ রূপান্তরে ১৩ আগস্ট, ২০২২ তারিখে প্রকাশিত ‘‘দেশে দেশে ব্যয় সংকোচন’’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন অবলম্বনে]
Comments
Post a Comment