প্রাথমিক শিক্ষকের অনলাইন বদলি নির্দেশিকা প্রকাশ
সময় নিউজ রিপোর্ট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির কাজটি হবে পুরোপুরি অনলাইনে। নির্ধারিত একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত আইডি ব্যবহার করে শিক্ষকদের বদলির জন্য আবেদন করতে হবে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওই শিক্ষক বদলির যোগ্য কি না বা কোন বিদ্যালয়ে বদলি হবেন, তা নির্ধারণ হবে।
গত রোববার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি ও পুনঃবদলির নির্দেশনা দিয়ে ‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা’প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশিকায় বলা হয়, প্রাথমিকের শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) কর্মচারীরা চাকরি পাওয়ার দুই বছর পর বদলির আবেদন করতে পারবেন। আর একবার বদলির পর তিন বছর পার না হলে কোনো শিক্ষক আবার বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না।
জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর বদলির আবেদন শুরু করে একটি নির্ধারিত সময় দেওয়া হবে। অনলাইন আবেদন ছাড়া কোনোভাবেই বদলির সুযোগ থাকবে না। তবে মহানগর এলাকার (ঢাকাসহ ১১টি মহানগর) বদলির কার্যক্রম আপাতত বন্ধই থাকবে। মহানগরের বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এখন বদলির কাজটি হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিকের মাঠ প্রশাসনের বদলির কাজও অনলাইনে করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: আমিনুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষা বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে একই উপজেলা বা থানা, আন্তঃজেলা বা থানা ও আন্তঃবিভাগে বদলি করা যাবে। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত ২৩ জন শিক্ষক অনলাইনে বদলির আবেদন করেন, তাদের ১৭ জনের বদলির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
বদলিবিষয়ক পাঁচ পৃষ্ঠার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বদলির সময়কাল ব্যতীত অন্য সময়ে কোনো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে সেই পদে প্রধান শিক্ষক বদলি করা যাবে। প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হলে এবং পদ শূন্য থাকলে আন্তঃজেলা বা থানা বা আন্তঃবিভাগে বদলি করা যাবে। তবে এ সময়ের মধ্যে একই উপজেলা বা থানায় পদ শূন্য হলে বদলির সুযোগ থাকবে। এতে আরো বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে চারজন বা এর কম সংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন, শিক্ষক ছাত্র অনুপাত ১:৪০ এর বেশি রয়েছে; সেসব স্কুল থেকে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলি করা যাবে না।
উপজেলা বা থানার মধ্যে একই পদে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে যথাক্রমে দূরত্ব, লিঙ্গ, চাকরির জ্যেষ্ঠতা, প্রতিবন্ধিতা, বিয়ে, স্বামীর মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদ- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উপজেলার মোট পদের সর্বাধিক ১০ ভাগ পদে সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাইরে থেকে উপযুক্ত শিক্ষক পদ শূন্য সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। কোনো শিক্ষকের স্ত্রী বা স্বামী সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে তাকে স্ত্রী বা স্বামীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তবে এ সুযোগ চাকরিকালে সর্বোচ্চ দুবার গ্রহণ করা যাবে। প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়ার তিন বছরের মধ্যে কোনো শিক্ষক পুনঃবদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষক অনলাইনে আবেদনটি করার পর সেটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনিও ওই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে যাচাই করে দেবেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। তিনি সেটি যাচাই করে পাঠাবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিইও) কাছে। ডিপিইও সেটি মঞ্জুর করে পাঠিয়ে দেবেন আবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। তিনি তখন বদলির বিষয়ে আদেশ জারি করবেন এবং শিক্ষক সেটি অনলাইনেই জেনে যাবেন।
তিন ধাপের এই যাচাইয়ে প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিন দিন করে সময় পাবেন। এই তিন দিনের মধ্যে যাচাই করে নিষ্পত্তি না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যাচাইয়ের জন্য নিয়োজিত পরবর্তী ব্যক্তির কাছে চলে যাবে। তখন নিষ্পত্তি না করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে বদলি করা যাবে। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর যেকোনো সময় যেকোনো কর্মচারীকে বদলি করতে পারবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম হতো বছরে তিন মাস। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চলত এ কার্যক্রম। কিন্তু ২০১৯ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তিন মাস নয়, সারা বছরই বদলি কার্যক্রম চলবে। এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। তিন মাসের নিয়মেই হতে যাচ্ছে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম।
Comments
Post a Comment