নতুন শিক্ষাক্রম : ডিসেম্বরে প্রাথমিকের সোয়া পাঁচ লাখ শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাবেন
সময় নিউজ রিপোর্ট
প্রাথমিকে পাইলটিং ছাড়াই আগামী বছর চালু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম। আর ঝুঁকি এড়াতে বাদ দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণি। আগামী বছর সরাসরি প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে নতুন শিক্ষাক্রমের বই দেওয়া হবে। তবে মাধ্যমিকে পাইলটিং শেষে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমের বই শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান সম্প্রতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী বছর পুরো সময়টাকেই আমরা পাইলটিং হিসেবে ধরছি। সেখান থেকে আমরা যেসব সমস্যা পাব তা ২০২৪ সালে ঠিক করা হবে। ইতিমধ্যে আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমের বই তৈরি হয়েছে। শিক্ষক নির্দেশিকাও তৈরির কাজ শেষের পথে। এটা শেষ হলেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পাইলটিং করার জন্য কমপক্ষে ছয়মাস সময়ের প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে চারমাস পড়ানোর পর পরিমার্জনের জন্য আরও দুই মাস সময় প্রয়োজন। কিন্তু এখন পাইলটিংয়ে গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জানুয়ারির প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া যাবে না। আবার যেহেতু আগামী বছর থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঐকমত্য আছে, সেজন্য ঝুঁকি এড়াতে শুধু প্রথম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। অর্থাৎ সরাসরি নতুন শিক্ষাক্রম চালু করতে গিয়ে কোনো সমস্যা হলে তা যেন দুই শ্রেণিতেই না হয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে আগামী বছর পাইলটিং শেষে ২০২৪ সালে চালু করা হবে।
প্রাথমিকের প্রশিক্ষণের বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য ড. রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘আমরা এনসিটিবি থেকে কো-ট্রেইনার ও মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করে দেব। এরপরের কাজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। তারা ট্রেইনার তৈরি করবে। এরপর ডিসেম্বরেই একযোগে সব প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের কম। এর বাইরে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রয়েছেন। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা সোয়া ৫ লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ হতে পারে। সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।’
আরো পড়ুন সময়োপযোগী এই কলাম: চোখ ওঠা রোগ (কনজাংটিভাইটিস) কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়
নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হবে। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না। পুরো মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে। পরবর্তী শ্রেণিগুলোর মূল্যায়নের পদ্ধতি হিসেবে পরীক্ষা ও ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রম—দুটোই থাকছে।
নতুন শিক্ষাক্রমে এখনকার মতো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে না। শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পাবলিক পরীক্ষা হবে। প্রতি বর্ষ শেষে বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষা হবে। এই দুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।
পড়তে পারেন: হার্ট অ্যাটাকের সত্যিকারের কারণ জানা সবার জরুরী
এছাড়া, নতুন শিক্ষাক্রমে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাসে পড়বে। শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক না বাণিজ্য বিভাগে পড়বে, সে বিভাজন হবে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে।
নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো—ভাষা ও যোগাযোগ, গণিত ও যুক্তি, জীবন ও জীবিকা, সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। প্রাক্-প্রাথমিকের শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না, শিক্ষকরাই শেখাবেন।
Comments
Post a Comment