Skip to main content

প্রতিদিন ৪০ মিনিট সাইকেল চালান, সুস্থ থাকুন

সাইকেল চালালে নাকি হার্টের ক্ষতি হয়!

ছোটকাল থেকে সাইক্লিং সম্পর্কে একটি কথা অসংখ্যবার শুনে আসছি মানুষের মুখে। ‘সাইকেল চালালে নাকি হার্ট দুর্বল হয়ে যায় বা হার্টের ক্ষতি হয়!’ ধারণাটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা দরকার। অনেকে আমাকেও কথাটি বিভিন্ন সময় বলে সাইকেল চালানোর ব্যাপারে সাবধান করেছে। এখনো অনেকে প্রায়ই বলে, ‘একটা মোটরসাইকেল কিনে নিন, সাইকেল চালালে...।’ শৈশব থেকে কথাটি শুনে আর দশজনের মতো আমারও বিশ্বাস হতো। তখন হয়তো ভাবতাম, সাইকেল চালাতে হয় কিছুটা ঝুঁকে ঝুঁকে এবং এতে বেশ পরিশ্রম হয় বলে হার্ট দুর্বল হয়ে যায়। অথবা অনেকের হয়তো বাস্তবিকই সাইকেল চালানোর কারণে হার্ট দুর্বল হয়ে গেছে বিধায় কথাটি সমাজে ব্যাপক প্রচলিত হয়ে গেছে। তাই কখনো কেউ এমন কথা বললে বিশ্বাস করে যেতাম নিশ্চিন্তে। নিজেও অবশ্য ভয়ে ভয়ে সাইকেল চালাতাম। মানুষের কথাটি নিয়ে কখনো তেমন একটা ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি।

বছরদুয়েক আগে এক সন্ধ্যায় আমি কর্মস্থল থেকে ফেরার সময় পথে আমার বন্ধুর মতো একজনের সাথে দেখা হলো। কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি আমাকে বললেন, ‘...ভাই, সাইকেল আর কতো চালাবেন, সাইকেল বেশি চালানো ঠিক নয়, এতে হার্ট দুর্বল হয়ে যায়। একটা মোটরসাইকেল...।’ তাঁর কথা শুনে আমি সামান্য ভাবলাম। ভেবে বললাম, ‘...ভাই, সাইকেল চালানোর কারণে হার্ট দুর্বল হয়ে গেছে, এমন একটা মাত্র লোক আমাকে দেখিয়ে দিন।’ আমার ঐ হিতাকাক্সক্ষী সাইকেল চালানোর কারণে হার্ট উইকনেসে ভোগা মাত্র একজন লোকের উদাহরণ দিতেও ব্যর্থ হলেন। তাহলে কোত্থেকে তিনি আমাকে বললেন সাইকেল চালানোর এই ক্ষতির কথা? তিনি বললেন, কারণ সমাজের অনেকের মুখে অহরহ এমন কথা শোনা যায়, শুধু এইজন্য!

কিছুদিন আগে এক খাবারের দোকানে আমার সাথে উপবিষ্ট একজন বয়স্ক লোককে দেখলাম আরেকজন লোকের সাথে আলাপে বলছে, ‘সাইকেল চালালে নাকি হার্টে লাগে!’ মানুষের এসব মনগড়া ধারণায় আমি ইদানিং খুব হতাশ হই। কৃষ্ণপদ দেবনাথ নামে আমাদের পার্শ্ববর্তী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রবীণ শিক্ষকের সাথে সেদিন (৪ অক্টোবর ২০১৮) বিদ্যালয়ে আসার পথে দেখা হলো। তিনিও সাইকেলে, আমিও সাইকেলে। দেখলাম, তিনি সাইকেল চালাচ্ছেন খুব ধীরে। কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর বললাম, ‘সাইকেল যে চালাচ্ছেন, আপনার শরীর ঘামায় না?’ তিনি বললেন, ‘না, আমি সাইকেল আস্তে আস্তে চালাই সব সময়।’ আমি বললাম, ‘আস্তে আস্তে চালানোতে তো লাভ নেই।’ তিনি বললেন, ‘জোরে চালালে ক্ষতিও হয়।’ আমি বললাম, ‘কী ক্ষতি হয় জোরে চালালে?’ তিনি বললেন, ‘হার্টের ক্ষতি হয়।’ আমি আর তেমন কিছুই বললাম না। ভাবলাম, যে কথাটা সবার মুখে মুখে, আমি একা সে কথাটির বিরোধীতা করলে কে বিশ্বাস করবে! তাছাড়া তাকে কথাটা বোঝাতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। আফসোস হলো, যে কাজ হার্টের পরম বন্ধু, যে কাজে হার্ট সুস্থ থাকে, সে কাজটাকেই আমরা হার্টের শত্রু বলে সারাক্ষণ প্রচার করছি!

বিশ্বের নানা দেশের মানুষ যখন নির্ভয়ে সাইকেল চালায়, আমাদের দেশের মানুষ তখন খুব ভয়ে ভয়ে সাইকেল চালায়, না জানি কখন হার্ট নষ্ট হয়ে যায়! চীন-জাপান-কোরিয়ার মানুষ সাইকেল চালাতে বেশ অভ্যস্ত। জাপানে ক্লাস সেভেন থেকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় সাইকেল চালিয়ে, তা তার বাবা অনেকগুলো গাড়ির মালিক হলেও! [জাপান কাহিনি, পৃ-৫৯; লেখক : আশির আহমেদ; প্রকাশনায় : ঐতিহ্য]

চীনের মানুষের সাইকেল চালানো সম্পর্কে একটু জেনে নিন চীন ভ্রমণকারী এক বাংলাদেশীর কাছ থেকে। ‘বেইজিং আজকালকার যে কোনো বড় শহরের মতোই, রাস্তা বেশ প্রশস্ত। রাস্তার একপাশে সাইকেল লেন। চীনের খুব কম লোককেই হাঁটতে দেখলাম। ছেলে মেয়ে সবাই সাইকেলে করে যাতায়াত করছে। যেদিকে তাকাই সেদিকেই অগুণিত সাইকেল।’ [জাপান থেকে মেক্সিকো, পৃ-৯; লেখক : ডা: আবদুস সাত্তার; প্রকাশক : সন্দেশ]

নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম শহর সম্পর্কে একটা মজার তথ্য জেনে নিন- ‘ঢাকাকে যেমন রিকশার শহর বলা হয়, আমস্টারডাম হচ্ছে সাইকেলের শহর। কেবল মূল শহরের প্রায় আট লক্ষ অধিবাসীর রয়েছে কমবেশি আট লক্ষ সাইকেল (এক হিসাবে ৮ লক্ষ ৮১ হাজার)। অথচ গাড়ির সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার, অর্থাৎ গাড়ির চেয়ে সাইকেলের সংখ্যা চার গুণ বেশি। নগরীর চলাচলের ৩২ শতাংশ হয় সাইকেলে, গাড়িতে ২২ এবং গণপরিবহনে ১৬ শতাংশ। সাইকেলের জন্য নির্ধারিত লেনের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। লাল রঙের এই লেনে পথচারীদের কেউ মনের ভুলে হাঁটতে থাকলে সাইকেলের গতিরোধ হয় বলে তারা মাঝে মাঝে বেশ ক্ষেপে যায়। কারণ বহু কষ্টে আমস্টারডামের সচেতন নাগরিকেরা তাদের শহরকে একটা সাইকেল বান্ধব শহরে পরিণত করতে পেরেছিল।’ [বিশ্বজোড়া অনন্ত অঙ্গনে, পৃ-১৪৩; লেখক : ফারুক মঈনউদ্দিন; প্রকাশনায় : অন্যপ্রকাশ]

প্রথম আলোর সাথে প্রতি শনিবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’র ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায় একটি মজার তথ্য ছাপা হয় ‘যে দেশে মানুষের চেয়ে সাইকেল বেশি!’ শিরোনামে। সেখানে বলা হয়, ‘নেদারল্যান্ডসের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ। তবে আজব ব্যাপার হলো, দেশটিতে সাইকেলের সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখ, যা মোটা জনসংখ্যার চেয়ে বেশি।

এতটুকু জেনে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য দেশটির সরকার সম্প্রতি উদ্যোগী হয়েছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে সাইকেল পার্কিং, নতুন পথ তৈরি করাসহ বাইসাইকেল জনপ্রিয় করার কাজে। এমনকি তিন বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া টাকায় সাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য দেওয়া হবে আলাদা সুযোগ-সুবিধা।

ডাচদের এত সাইকেলপ্রীতি কেন? সাইকেল জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের আগেও ডাচরা বাইসাইকেলে যাতায়াত করত। কিন্তু গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে এসে চিত্রটা হঠাৎ বদলে যেতে শুরু হয়। ইউরোপের দেশগুলোতে গাড়ির সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়। মানুষ সাইকেল ছেড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার শুরু করে। গাড়ি বাড়ার ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও বাড়তে থাকে। ১৯৭১ সালের হিসাবেই দেখা যায়, সে বছর প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা যায়, যার মধ্যে ৪৫০ জন ছিল শিশু।

এই পরিসংখ্যান টনক নড়ায় অনেকের। গড়ে ওঠে সামাজিক আন্দোলন। ‘শিশুহত্যা বন্ধ করো’ স্লোগানে সে আন্দোলনের সময়ই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ-আমেরিকার টানাপোড়েনে বিশ^জুড়ে জেঁকে বসে তেলের সংকট। সবকিছু মিলে আবার ডাচ সরকার বাইসাইকেল জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হয়। নগর-পরিকল্পনাবিদেরা সাইকেল বান্ধব নগর গড়ে তুলতে এগিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে ব্যবহার শুরু হয়। ব্যবহার শুরু হলে জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠে অল্প দিনেই। আর এখন তো নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামেই ৭০ শতাংশ যাতায়াত হয় বাইসাইকেল।’ [বিবিসি ও সিএএন অবলম্বনে ফাইজুন নাহার]

সাইকেল চালালে হার্টের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, বরং আমি নিশ্চিত, নিয়মিত পর্যাপ্ত সাইকেল চালালে মানুষের হার্ট সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে, এমনকি শরীরে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়ার সম্ভাবনাও শূন্য হয়ে যায়। কথাটির ব্যাপারে আপনি কিভাবে নিশ্চিত হবেন, সেটাও বলে দিচ্ছি। আপনার আশপাশে দেখুন দীর্ঘদিন ধরে কেউ সাইকেল চালায় কিনা। দৈনিক অন্তত ৪০ মিনিট সাইকেল চালায়, একেবারে ধীরগতিতে নয়, দেখবেন এমন কারো হার্টের রকানো সমস্যা রনই, রনই উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসও। আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করলে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হবে। বছরের পর বছর যারা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে (অবশ্যই পায়েচালিত রিকশা, শহরে এখনো যেগুলোর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে মোটরচালিত রিকশার ব্যবহার বাড়ছে), দেখবেন তাদের কারো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ নেই। আমার বিশ্বাস, এমন একজন রিকশাচালকও খুঁজে পাওয়া যাবে না, দীর্ঘদিন ধরে যে পায়েচালিত রিকশা চালানোর পরও তাকে এসব কোনো রোগ স্পর্শ করেছে।

আমরা জানি, সাইকেল আর রিকশা চালানো প্রায় একই রকম। দুটিতে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। উভয়টা চালাতে হয় পায়ে চেপে, বেশ পরিশ্রম হয়, শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে, শরীর থাকে মেদ-চর্বিমুক্ত। বরং পার্থক্য থাকলে শুধু এটা থাকতে পারে, সাইকেলের চেয়ে রিকশা চালানোতে কয়েকগুণ বেশি শারীরিক পরিশ্রম হয়, কয়েকগুণ বেশি ঘাম ঝরে। নিয়মিত রিকশা চালানোর কারণে যদি হার্ট ভালো থাকে, যদি বিশ-ত্রিশ বছর ধরে যারা রিকশা চালায় তাদের কারোই হৃদরোগ না থাকে, হার্ট অ্যাটাকে কেউ আক্রান্ত না হন, তাহলে সাইকেল নিয়মিত চালালেও অবশ্যই হার্ট ভালো থাকবে, হার্টের কোনো ক্ষতি হওয়া তো দূরের কথা।

১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখের প্রথম আলোয় ‘সপ্তাহে সাইকেল চালান অন্তত ১৫০ মিনিট’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা) ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুন নাহান একটি নিবন্ধ লেখেন। তাতে তিনি লিখেন, ‘আনন্দের জন্যই হোক কিংবা কাজের তাগিদে, সাইকেল চালানো শরীরের জন্য বেশ উপকারী। নিয়মিত সাইকেল চালালে খুব ভালো ব্যায়াম হয়। সাইকেল চালানোর কিছু উপকারিতা:

* নিয়মিত সাইকেল চালালে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। একজন ৮০ কেজি ওজনের ব্যক্তি এক ঘন্টা সাইকেল চালানোর মাধ্যমে প্রায় ৬৫০ ক্যালরি ক্ষয় করতে পারেন, যা ধীরে ধীরে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

* শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে হাঁটাচলা কিংবা পরিশ্রম যাদের কম হয়, সারা দিন বসে কাজ করতে বাধ্য হন, দিনশেষে একটু সাইকেল চালনা তাদের সেই অভাব পূরণ করবে। হৃদযন্ত্রের ফিটনেস বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট সাইকেল চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।...’

৮ এপ্রিল ২০১৭ সংখ্যা দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘সাইক্লিং ভাল ব্যায়াম’ শিরোনামে সাইক্লিং সম্বন্ধে অনেকগুলো গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি একটি প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ উল্লেখ করা হলো সাইকেল চালানোর ব্যাপারে আমাদের দ্বিধা দূর করার জন্য-

‘সাইকেল অর্থাৎ বাইসাইকেল চালানো হাঁটা এবং সাঁতার কাটার মতো একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। রক্তচাপও কমে। সপ্তাহে ৩৫ কিলোমিটারের মতো পথ সাইকেল চালালে করোনারি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।

নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক। ....২০০৭ সালে বৃটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনের এক গবেষণার কথা এটি। ....নিয়মিত সাইকেল চালালে মোটা লোকদের স্বাভাবিক ওজন ফিরে পাবার সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ- এ তথ্য পাওয়া গেছে আর্কাইভস অব পেডিয়েড্রিকস এন্ড এডোলিসেন্ট মেডিসিন নামক জার্নালের ২০০৮ সালের এক সংখ্যায়।

নিয়মিত সাইকেল চালালে শরীরের ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট কম। ২০০৮ সালে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন নামক এক জার্নালে অস্ট্রেলিয়ার লোকদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণার ফল এরূপই।...’

২০ এপ্রিল ২০১৭ বিবিসি নিউজে প্রকাশিত Cycling to work can cut cancer and heart disease, says study শিরোনামে সাইক্লিং সম্পর্কে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ উল্লেখ করা হচ্ছে।

‘Want to live longer? Reduce your risk of cancer? And heart disease? Then cycle to work, say scientists.The biggest study into the issue linked using two wheels with a halving of the risk of cancer and heart disease.The five-year study of 250,000 UK commuters also showed walking had some benifits over sitting on public transport or taking the car. The team in Glasgow said cycling took no willpower once it became part of the work routine - unlike going to the gym. ...This is really clear evidence that people who commute in an active way, particularly by cycling, were at lower risk,’ Dr Jason Gill, from the University of Glasgow, told the BBC News Website.’ [https://www.bbc.com/news/health-39641122]

এখানে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সাইক্লিং যে বড় ভূমিকা রাখে তা বলা হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘজীবন লাভের জন্যও সাইক্লিংয়ের অবদানের কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে প্রথম আলোর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সংখ্যায় ‘হৃদয়ের শত্রু’র বিরুদ্ধে অস্ত্র বানান সাইকেলকে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ‘দুই বছর আগে ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বে প্রতিবছর সব অকালমৃত্যুর প্রতি ১০টির মধ্যে একটি হয় ব্যায়াম না করার কারণে। মানে, নিয়মিত শরীরচর্চায় সুস্থ জীবন ও দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।...

সাইকেল চালালে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে হৃৎপিন্ড ভালো থাকে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ‘সাইক্লিং’ ভীষণ উপকারী। স্পোর্টস জার্নাল মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স-এর গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, শরীরচর্চায় দৌড়ানোর চেয়েও বেশি ভালো সাইক্লিং ও সাঁতার। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাইলে সাইকেল চালাতে পারেন।...

কোপেনহেগেন ‘হার্ট স্টাডি’র গবেষকরা ১৪ বছর ধরে ৫ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করেছেন। তাঁদের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, তীব্র ‘সাইক্লিং’ মানুষের হৃৎপিন্ডের ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধাগ্রস্ত করে। ...

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি সপ্তাহে ন্যূনতম ১৫০ মিনিট তীব্র শরীরচর্চা করলে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ মিনিট ‘সাইক্লিং’ কিন্তু এ কাজটা করে দিতে পারে।...’

সাইকেল চালানোর আরও কিছু ক্ষতির কথা!

সাইক্লিং সম্পর্কে ভুল ধারণা শুধু আমাদের দেশেই প্রচলিত নয়। আমাদের দেশে তো পত্রপত্রিকা বা মিডিয়ায় সাইক্লিং নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রচারণা দেখতে পাওয়া যায় না, মানুষের মুখে মুখেই শুধু সাইক্লিংয়ের ক্ষতি নিয়ে যত কথা শোনা যায়। bengali.china.com নামে চায়নাভিত্তিক একটি বাংলা ওয়েবসাইটে (যাকে ‘চীনের বিশ্বকোষ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়) প্রকাশিত ‘সাইকেল চালানোর উপকারিতা ও ক্ষতি’ শিরোনামে একটি নিবন্ধে দেখলাম, সাইক্লিংয়ের উপকারিতার পাশাপাশি কিছু ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে সাইক্লিংয়ের কয়েকটি উপকারিতার কথা বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে, ‘সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অবশ্য, অতিরিক্ত সাইকেল চালালে হিতে বিপরীত হতে পারে। আজকের ‘জীবন যেমন’ অনুষ্ঠানে আমরা সাইকেল চালানোর উপকারিতা ও ক্ষতি-দুটো দিক নিয়েই আলোচনা করবো।

উপকারিতা ১: হৃদরোগ এড়াতে ভূমিকা রাখে

হৃদরোগ এড়ানোর এক শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে সাইকেল চালানো। বিশ্বে যারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাদের অর্ধেকের বেশি হৃদরোগী। হৃদরোগীদের জন্য রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ খুবই জরুরি। সুস্থ মানুষ নিয়মিত সাইকেল চালালে যেমন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমে যায়, তেমনি যারা হৃদরোগে ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের জন্যও নিয়মিত সাইকেল চালানো ভালো।

উপকারিতা ২: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাইকেল চালানো ভূমিকা রাখে। এমনকি, এটা ওষুধের চেয়েও অধিক কার্যকর বলে অনেকে মনে করেন।

উপকারিতা ৩: হার্ট সুস্থ রাখে

সাইকেল চালানো আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখে। একজন প্রবীণ বলেছেন, তিনি সপ্তাহে অন্তত ৩ বার সাইকেল চালিয়ে থাকেন। এতে তার হার্ট সুস্থ থাকে। তিনি বলেন, ৬ দিনে তিনি ৪৬০ কিলোমিটার সাইকেলে ভ্রমণ করতে পারেন।

উপকারিতা ৪: মুটিয়ে যাওয়া রোধ করে

নিয়মিত সাইকেল চালালে আপনি মুটিয়ে যাবেন না, এমন সম্ভাবনা বেশি। এক জরিপ থেকে জানা গেছে, ৭৫ কিলোগ্রাম ওজনের একজন মানুষ প্রতি ঘন্টায় ৯.৫ মাইল গতিতে ৭৩ মাইল সাইকেল চালালে তাঁর ওজন ০.৫ কিলোগ্রাম কমে যায়। তবে এটা প্রতিদিন করা উচিত বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

উপকারিতা ৫: মেজাজ ঠিক রাখে

আধুনিক জীবনে কাজের চাপ বা পারিবারিক ঝামেলাসহ ভিন্ন সমস্যা থাকার কারণে আমাদের মেজাজ প্রায়ই খারাপ হতে পারে। এই অবস্থায় সাইকেল চালালে উপকার পাওয়া যাবে। শরীরচর্চার পাশাপাশি বাইরের বিভিন্ন দৃশ্য আপনাকে স্বস্তি এনে দিতে পারে।

উপকারিতা ৬: পরিবহন-ব্যয় কমায়

হ্যাঁ, স্বল্প দূরত্ব ভ্রমণের জন্য আপনি সাইকেল ব্যবহার করতে পারেন। সাপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধু বা স্বজন কাউকে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে বেড়াতে পারেন। এভাবেই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এতে আপনার পরিবহনব্যয়ও কমে যাবে।

সাইকেল চালানোর উপকারিতা নিয়ে অনেক কথা বললাম। এখন অতিরিক্ত সাইকেল চালানোর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে কিছু কথা বলবো।

ক্ষতি ১: অতিরিক্ত সাইকেল চালালে আপনার ‘যৌন ক্ষমতা’ হ্রাস পেতে পারে।

ক্ষতি ২: হাতের ব্যথা হতে পারে

ক্ষতি ৩: কোমরে ব্যথা হতে পারে

ক্ষতি ৪: হাড়ে চিড় ধরতে পারে।

অবশ্য ক্ষতি হবে তখনই যখন আপনি অতিরিক্ত সাইকেল চালাবেন। পরিমিত মাত্রায় সাইকেল চালালে আপনার শুধু উপকারই হবে।’ [http://bengali.china.com/life/3603/20170402/929330.html]

এই লেখাটিতে সাইকেল চালানোর ছয়টি উপকারের কথা বলা হয়েছে, যার চারটি শারীরিক উপকার, একটি মানসিক উপকার এবং একটি আর্থিক উপকার। শারীরিক উপকার চারটির মধ্যে ১ নং এবং ৩ নং একই। সাইকেল চালানো ‘হৃদরোগ এড়াতে ভূমিকা রাখে’ যে কথা, ‘হার্ট সুস্থ রাখে’ সেই একই কথা। তবু বিষয়টাকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হলো কেন, বুঝা যায় না। এ অধ্যায়ের শুরুতে ‘সপ্তাহে সাইকেল চালান অন্তত ১৫০ মিনিট’ শিরোনামে প্রথম আলোয় ১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।’

সাইকেল চালানোও নিঃসন্দেহে একটি শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাইকেল চালানোও বেশ সহায়ক। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও যে সাইকেল চালানো ভূমিকা রাখে, তা অনেক গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু চায়না.কম এর এই নিবন্ধে সাইকেল চালানোর উপকারিতার তালিকায় বিষয়টা স্থান পায়নি কেন, তাও বুঝতে কষ্ট হয়।

এবার আসা যাক নিবন্ধটিতে উল্লেখিত চাইকেল চালানোর ক্ষতির কথায়। এখানে সাইকেল চালানোর চারটি ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। প্রথমেই বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত সাইকেল চালালে আপনার ‘যৌন ক্ষমতা’ হ্রাস পেতে পারে।’ সাইকেল চালালে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পাবার কথা মনে হয় সাইকেল চালানো নিয়ে পৃথিবীতে যত গবেষণা হয়েছে, কোনো গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি। এ লেখায় সাইক্লিং নিয়ে কয়েকটা গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো গবেষণায় বলা হয়নি, সাইকেল চালানো যৌন ক্ষমতা হ্রাস করে। সাইক্লিং নিয়ে আরো অনেক গবেষণা সম্পর্কে পড়েছি পত্রপত্রিকায়। সাইকেল চালালে যৌন ক্ষমতা হ্রাস হয়, এরকম কোনো কথা কোথাও দেখিনি।

পায়েচালিত রিকশা চালানোটা ঠিক ‘অতিরিক্ত’ সাইকেল চালানোর মতোই। এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে দেড়-দুইশ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষ পায়ে চালিত রিকশা চালিয়ে যাচ্ছে উপার্জনের একমাত্র পন্থা হিসেবে। কিন্তু এখনো কোনো গবেষণায় এটা প্রকাশ পায়নি, রিকশা চালানো মানুষের যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাহলে সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে বিষয়টা সত্য হয় কী করে! পৃথিবীর অনেক দেশে মানুষ সাইকেল চালাতে অভ্যস্ত। দীর্ঘদিন ধরে যারা এভাবে সাইকেল চালায়, তাদের কারো এরকম সমস্যা হয়েছে বলে আমার মনে হয় আর কোনো পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়নি।

সাইকেল না চালালেও অনেক সময় অনেকে অন্য কোনো কারণে যৌন দুর্বলতাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে যৌবনের প্রথম অবস্থায় হস্তমৈথুনের কারণে। অতিরিক্ত সাইকেল চালায়, এমন কোনো লোকের যদি এমন যৌন দুর্বলতা জাতীয় সমস্যা হয়, তাহলে এটা কি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, সাইকেল চালানোর কারণেই তার সমস্যাটি হয়েছে? যদি অন্য কারো সমস্যাটি না হয়ে শুধু যারা সাইকেল চালায়, তাদেরই সমস্যাটি হতো, তাহলে সাইকেল চালানোকে সমস্যাটির জন্য দায়ী করা যেতো।

সাইকেল চালানো নিঃসন্দেহে একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। এটা চিরসত্য, ব্যায়াম করলে খাবারের চাহিদার পাশাপাশি যৌন চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। তাই সাইকেল চালালে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায় না, বরং বৃদ্ধি পায়।

‘যৌন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় সাইক্লিং’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘যাতায়াত, ব্যায়ামের জন্য অনেক পুরুষেরই প্রথম পছন্দ সাইকেল। সাইকেল চালিয়েই অনেকে প্রতিদিন এখান থেকে সেখানে যাওয়া-আসা করেন। আবার ব্যায়াম করতেও অনেকে সাইক্লিং করেন। এটি পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। অতীতের কয়েকটি তত্ত্বে বর্ণনা করা হয়, সাইক্লিং পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সেসব তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই এ গবেষণা। এতে উঠে এসেছে- সাইক্লিং পুরুষের তো কোনো ক্ষতি করেই না, বরং আরও উপকার করে। এটি স্থূলতার ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে।

পড়তে পারেন: সাইকেল চালানোয় কোনো ক্ষতি নেই, আছে শুধুই উপকার

গবেষণা প্রবন্ধটি ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। অ্যাথলেটদের তিন ভাগ করে (২ হাজার ৭৭৪ সাইক্লিস্ট, ৫৩৯ সাঁতারু ও ৭৮৯ দৌড়বিদ) গবেষণাটি চালানো হয়। তাদের নানা ধরনের যৌনসংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়। এতে দেখা যায়, সাইকেল চালালে চালকদের যৌন স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। উল্টো শারীরিকভাবে আরও ফিট থাকা যায়। গবেষকরা বলছেন, সাইক্লিস্টদের ওপর বাইসাইকেল চালানোর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং এটি যৌনসংক্রান্ত অনেক সমস্যা প্রতিরোধ করে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন ব্রেয়ার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এ ফল সাইক্লিস্টদের উৎসাহিত করবে। নিয়মিত সাইক্লিংয়ে হাড়ের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। রক্তসঞ্চালন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রবাহ ঠিক থাকে। পেটে মেদ জমার শঙ্কা থাকে না।’ [তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।]

চায়না.কম - এ সাইকেল চালানোর ক্ষতি সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে, সাইকেল চালালে হাতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা হতে পারে, হাড়ে চিড় ধরতে পারে।

বাংলাদেশে এমন অনেক রিকশা চালক আছেন, যারা দু’তিন যুগ ধরে রিকশা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাইকেল চালালে যদি এরকম সমস্যা হতো, তাহলে রিকশা চালালে সমস্যাটি আরো মারাত্মক হতো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ আজ থেকে বিশ-পঁচিশ বছর আগে বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামীন রাস্তা ছিল কাঁচা। বর্ষাকালে সেসব কাদায় ভরা রাস্তায় রিকশাচালকরা রিকশায় যাত্রী বা মালামাল নিয়ে রিকশা চালাতে যে কত কষ্ট হতো, তা তারা ছাড়া কেউ বুঝবে না। যদি রিকশা চালালে হাতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা হতো, হাড়ে চিড় ধরতো, তাহলে কয়েক বছর রিকশা চালালেই মানুষ অচল হয়ে যেতো। কয়েক যুগ রিকশা চালানোর পরও কেউ হাতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, হাড়ে চিড় ধরায় আক্রান্ত হয়ে রিকশা চালাতে অক্ষম হয়ে গেছে, আমি দেখিনি। রিকশা চালালে যদি এমন না হয়, সাইকেল চালালে কোত্থেকে হবে! ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত সাইকেল সংক্রান্ত যে গবেষণা প্রবন্ধের কথা একটু আগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে শেষ দিকে বলা হয়েছে, ‘নিয়মিত সাইক্লিংয়ে হাড়ের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।’ গবেষণায় যখন প্রমাণিত হয়, সাইকেল চালালে হাড়ের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়, তখন চায়না.কম কোত্থেকে বলে, সাইকেল চালালে ‘হাড়ে চিড় ধরতে পারে’!

চায়না.কম ওয়েবসাইট লেখাটি প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্তই করেছে। সাইকেল চালানোতে উপকার ছাড়া কোনো ক্ষতি নেই। একটা কাজে যদি উপকার এবং ক্ষতি দুটোই থাকে, মানুষ সে কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এটা ঠিক, অনেক কাজেই উপকার এবং ক্ষতি দুটোই থাকতে পারে। তার মানে সব কাজে নয়। কিছু কাজ আছে, শুধুই উপকারি, কিছু আছে শুধুই ক্ষতিকর, কিছু আছে, যাতে উপকার এবং ক্ষতি দুটোই আছে। সাইক্লিং যেহেতু একটা উৎকৃষ্ট ব্যায়াম আর ব্যায়াম মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তাই সাইক্লিং নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ালে মানুষের ক্ষতি ছাড়া কিছু হবে না।

সাইকেল এবং সাইক্লিংয়ের কিছু বৈশিষ্ট্য

* সাইকেল একটি সর্বজনীন যানবাহন, খুব কম মূল্যে যা পাওয়া যায় বলে ধনী-গরীব সবাই কিনতে পারে।

* সাইকেল চালাতে কোনো জ্বালানীর প্রয়োজন হয় না। তাই জ্বালানীর জন্য কোনো খরচও নেই, জ্বালানীর কারণে পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনাও নেই। সাইকেল হচ্ছে জ্বালানীখরচহীন সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন।

* জনবহুল শহরে চার’চাকার গাড়িগুলো যানজট সৃষ্টির একটি বড় কারণ। সেক্ষেত্রে দু’চাকার সাইকেলের বহুল ব্যবহার যানজট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

* সড়কে চলে অথচ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে কম দায়ী যে যানবাহন, তা সাইকেল। শুধু মোটরসাইকেলের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে, অন্তত দশ বছর মোটরসাইকেল চালিয়েছে, এমন শতকরা ৮০ জনই ছোট বা বড় কোনো দুর্ঘটনায় পড়েছে, অনেকে তাৎক্ষণিক মারাও গেছে। অথচ দশ বছর সাইকেল চালিয়েছে, এমন মানুষ শতকরা ২০ জনও ছোট কোনো দুর্ঘটনায়ও পড়েনি।

* আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও যাদের জিমে যাবার সুযোগ হয় না, তাদের জন্য সাইকেল নিজেই একটা জিম। আপনার একটা সাইকেল আছে মানে আপনার একটা জিমও আছে। একের ভেতর দুই! সাইকেলে ঘুরছেন মানে ধরে নিতে পারেন আপনি আপনার গন্তব্যে যাবার পাশাপাশি আপনার জিমে ব্যায়ামও করছেন। সাইকেলের সাথে জিমের বড় কোনো ব্যবধান থাকলে, তা সম্পূর্ণ লাভজনক ব্যবধান।

* মানুষের আবিষ্কৃত সেরা এক আবিষ্কারের নাম সাইকেল। মানুষের আবিষ্কৃত বোমা বা আগ্নেয়াস্ত্র নয়, একটা ছুরিকেও যখন মানুষের জীবন নাশের জন্য ব্যবহার করা হয়, সাইকেলকে সাধারণত সেভাবে কারো ক্ষতির জন্য ব্যবহার করা হয় না। তাই মানুষের এ আবিষ্কার নিঃসন্দেহে মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ।

* সাইক্লিং একটা মহৌষধ, যা মানুষকে কিছু ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা করে। যেমন: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাক। মানুষকে দীর্ঘজীবি করার ক্ষেত্রে সাইকেল এক অকৃত্রিম বন্ধু।


এই নিবন্ধ হচ্ছে দীর্ঘজীবন লাভের উপায় শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশিত একটি বইয়ের অংশ বিশেষ। পুরো বই পড়া যাবে এই লিঙ্কে:  https://www.facebook.com/waytogainlonglife/posts/786418842097294

Comments

Popular posts from this blog

রূপালী ব্যাংকের সকল শাখার রাউটিং নাম্বার

 রূপালী ব্যাংকের সকল শাখার রাউটিং নাম্বার জেনে  নিন। Districts Branch Names Routing No. Bagerhat Bagerhat Branch 185010078 Bagerhat Baraikhali Branch 185010131 Bagerhat Betaga Bazar Branch 185010160 Bagerhat Fakirhat Branch 185010465 Bagerhat Kachua Bazar Branch 185010760 Bagerhat Mansa Bazar Branch 185010881 Bagerhat Mollahat Branch 185010915 Bagerhat Mongla Port Branch 185010973 Bagerhat Nager Bazar Branch 185011093 Bandarban Bandarban Branch 185030137 Barguna Amtali Branch 185040048 Barguna Barguna Branch 185040130 Barguna Betagi Branch 185040222 Barisal Agarpur Branch 185060044 Barisal Bazar Road Branch 185060402 Barisal Bhawanipur Branch 185060460 Barisal Central Bus Terminal Branch 185060615 Barisal Hemayetuddin Road Branch 185060886 Barisal Mehendiganj Branch 185061364 Barisal Muladi Port Branch 185060060 Barisal Rahmatpur Branch 185061722 Barisal Sadar Road Branch 185061814 Barisal Sagardi Bazar Branch 185061872 Barisal Shikarpur Branch 185062084 Bhola Bangla Bazar Bra...

জিপিএফ ফান্ডের হিসাব ঘরে বসে অনলাইনে দেখার নিয়ম

জিপিএফ ফান্ডের হিসাব ঘরে বসে অনলাইনে দেখার নিয়ম জিপিএফ ফান্ডের হিসাব এখন ঘরে বসে অনলাইনে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে আপনার েস্মার্টফোন অথবা কম্পিউটারে নেট কানেকশন দিয়ে  জিপিএফ ফান্ডের হিসাব   এই লেখায় ক্লিক করুন। আপনার সামনে তিনটি অপশন আসবে। একটি হচ্ছে  Pension Payment Information আরেকটি হচ্ছে  GPF Information আরেকটি হচ্ছে  Grievance Redress System আপনি  GPF Information -এ ক্লিক করুন। আপনার সামনেিএকটি উইন্ডো ওপেন হবে। আপনি  এই উইনন্ডোতে প্রথম ঘরে আপনার ১৭ ডিজিটের আইডি নং অথবা ১০ ডিজিটের স্মার্ট কার্ড নম্বর লিখুন এরপর দ্বিতীয় ঘরে যে নাম্বার দিয়ে ফিক্সেশন করেছেন সেই মোবাইল নং দিন, তৃতীয় ঘরে অর্থবছর লিখুন, ২০২২ সালের জন্য ২০২১-২২ সিলেক্ট করুন। এরপর এন্টার বা সাবমিট দিন। আপনার নাম্বারে একটি ওটিপি নাম্বার আসবে।  সেটি দিলেই আপনার হিসাব চলে আসবে।

EFT Form ইএফটি ফরম পূরণের নিয়মাবলী (ফরমসহ)

 EFT Form ইএফটি ফরম সকল সরকারি চাকরিজীবির জন্য। নিয়মাবলী: নম্বরের বিপরীতে কিছু তথ্য উক্ত তিনটি সার্ভার থেকে আসবে। তাই এই তিনটি অংশ কোনক্রমেই ভুল করা যাবে না। ২।  পুরো ফর্মের ৬ (ছয়)টি জায়গায় বাংলায় নাম লিখতে হবে। বাকিগুলো ইংরেজিতে লেখাই ভালো হবে। এতে করে ডাটা এন্ট্রি যারা করবেন তাদের জন্য সুবিধা হবে। ইংরেজিতে নাম লেখার সময় Capital Letter ব্যবহার করলে ভালো হয়। ফরমের যে সমস্ত জায়গায় বাংলায় নাম লিখতে হবে- ক. ১.০ প্রাথমিক তথ্যাদির * কর্মচারীর নাম খ. ২.২ পারিবারিক তথ্যাদির ২.২.১ এ স্বামী/স্ত্রী সম্পর্কিত তথ্যাদির ৩ (তিন) নম্বর কলামে। গ. ২.২.২ এর সন্তান সম্পর্কিত তথ্যাদির ৫ (পাঁচ) নম্বর কলামে। (যাদের প্রয়োজন তারা লিখবেন।) ঘ. ২.২.৩ প্রতিবন্ধি সন্তান সম্পর্কিত তথ্যাদির ৪ (চার) নম্বর কলামে (যাদের প্রয়োজন। তারা লিখবেন।) ঙ. ৫.২ জিপিএফ নমিনি সংক্রান্ত তথ্যাদির ৪ (চার) নম্বর কলামে চ. ৯.০ চাকুরিজীবির অবর্তমানে পেনশন প্রাপ্তির উত্তরাধিকারী মনোনয়ন অংশের ৪ (চার) নম্বর কলামে। ৩। ১.০ প্রাথমিক তথ্যাদির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এর ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশনে ব্যবহৃত নম্বরটি দিতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন আইডি কিং...